বাজারে ভিস্তা নিয়ে আসার আগে মাইক্রোসফটের এটা ধারনা ছিলো য়ে তাদের হয়তো কিছু প্রতিযোগীতার মূখোমুখি হতে হবে। কিন্তু তাদের এটা ধারনা ছিলোনা যে, তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দি তারা নিজেরাই। এই ছয় বছরের পুরোনো অপারেটিং সিস্টেমটা এখনো সবাইকে অবাক করে বাজারে তার মজবুত অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। যদিও ভিস্তার ফুল ভার্সন রিলিজ হয়েছে আরো ছয় মাস আগে কিন্তু তারপরও ব্যাবহারীরা তাদের কম্পিউটারে ভিস্তা ব্যাবহার করতে চাচ্ছে না এমনকি অনেকে তাদের কম্পিউটার থেকে ভিস্তা অপারেটিং সিস্টেম কে বাদ দিয়ে এক্সপি ইনস্টল করছে। গত এপ্রিলে ডেল তাদের নতুন যে সিস্টেমগুলো বাজারে এনেছে সেগুলোতে এক্সপি ইনস্টল করার অপশন দিচ্ছে । এক হিসাবে দেখা গেছে যে, মাইক্রোসফটের হিসেবে যে এক্সপির বিক্রি হবার কথা ২০০৮ সালে ১৫% সেটাকে তারা বৃদ্ধি করেছে ২২% এ। গত আগষ্টে মাইক্রোসফট ঘোষনা দেয় একটা মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এক্সপি সার্ভিস প্যাক ২সি রিলিজ করার। তবে এই নতুন সার্ভিস প্যাকে যুক্ত হচ্ছে না নতুন তেমন কিছু এবং তারা আশা করছে আগামী ২০০৯ সাল পযৃন্ত তারা বিক্রি করতে পারবে তাদের এই এক্সপি। এছাড়া যারা ডেল, এইচ পি বা লিনোভো থেকে পিসি কিনছেন তাদের একটা এক্সপি প্রো রিকভারী ডিস্ক দিয়ে দেওয়া হচ্ছে যেনো তারা প্রয়োজনবোধে ভিস্তার জায়গায় এক্সপি ইনস্টল করে নিতে পারে । এক্ষেত্রে বলা যায় ৪০ বছর বয়স্ক সানফ্রান্সিকোর সফটওয়্যার ডেভোলপার মার্ক সানফোর্ডের কথা, তার কম্পিউটারে ভিস্তা ইনস্টল করে নেবার সব রকম রিকোয়্যারমেন্ট থাকা সত্বেও তার ভিস্তাতে তার কস্পিউটারকে আপগ্রেড করে নেবার কোন রকম প্ল্যান নেই। তার মতে এক্সপি তার কাজের জন্য যথেষ্ট এবং এখনো এমন কিছু ঘটেনি যা তাকে এক্সপির কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে পারে এবং ভিস্তাতে আপগ্রেড করাতে পারে। আরেক হিসেবে দেখা যায় ২০০৭ সালের জানুয়ারী থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত এক্সপি বিক্রি হয়েছে ৪২.৩%। যখন এক্সপি প্রথম রিলিজ হয়েছিলো তখন একই সময়ে উইন্ডোজ বিক্রি হয়েছিলো ২৩.১%। তবে এটা কেবলমাত্র রিটেইল বিক্রির হিসেব এবং এটা দিয়েই সবকিছু বিচার করা যায় না। তবে গত কয়েকবছরে পিসির দাম যেরকমভাবে কমছে এবং ভিস্তার হার্ডওয়্যার রিকোয়ারমেন্ট যেহেতু অনেক বেশী কাজেই মানুষ এখন তাদের পিসি আপগ্রেড করার চাইতে নতুন পিসি কিনে নেবার ব্যাপারে বেশী আগ্রহী। তবে আরেকটা ব্যাপার সবাইকে অবাক করছে তা হলো এপলের অপারেটিং সিস্টেমের বিক্রি বেড়ে গেছে । যদিও মার্কেট শেয়ারের দিক দিয়ে হিসেব করে দেখলে এটা মাইক্রোসফটের বিক্রির তুলনায় তেমন কিছূ নয় কিন্তু তারপরও অনেক বেড়ে গেছে তাদের বিক্রি। এর কারন হলো আগে ম্যাকবুকে কেবল এপলের সফটওয়্যার ব্যাবহার করতে হতো কিন্তু এখন তা করার কোন প্রয়োজন পড়ে না, এখন ম্যাকের যে কোন কম্পিউটারে উইন্ডোজ এক্সপি বা ভিস্তা ব্যাবহার করা যায়। তবে সেক্ষেত্রে যেটা দেখা গেছে তা হলো ভিস্তা এই নিশ্চয়তা দেয় না যে এখানে সব সফটওয়্যার চালানো যাবে, কিন্তু এক্সপি সেই নিশ্চয়তা দিচ্ছে । সেজন্য যারাই এখন ম্যাকবুক কিনছেন তারাই এর সাথে সাথে এক্সপির একটা ভার্সন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া এর আরেকটা কারন হলো গেমাররা ভিস্তাকে তেমন একটা পছন্দ করতে পারছে না। কারন তারা ভিস্তার ডাইরেক্ট এক্স ১০ ঠিকমতো ব্যাবহার করতে পারছে না একইসাথে এক্সপির মতন হাই-স্পিডও পাচ্ছে না তারা ভিস্তা থেকে। এছাড়া গেমাররা এক্সপিতে যেখানে ব্যাবহার করতো ডাইরেক্ট সাউন্ড থ্রি ডি সেখানে তারা ভিস্তাতে এ ফিচারটা পাচ্ছে না। এসব কারনে গেমাররা এক্সপি নিয়েই সন্তুষ্ট। তবে মাইক্রোসফট তাদের নতুন যেই ভিস্তা সার্ভিস প্যাক বাজারে আনছে সেটা হয়তো এক্সপি ব্যাবহারকারীদেরকে সন্তুষ্ট করতে পারবে বলে অন্তত আশা করা যায়।
One Response to “ভিস্তার প্রধান প্রতিদ্বন্দি হলো এক্সপি”
লেখাটির সম্পর্কে মন্তব্য করুন
You must be logged in to post a comment.
September 29th, 2007 at 7:38 pm
মানুষ ভিস্তা ব্যবহার করতে চাইবে না কারন ভিস্তা অনেক বেশি রিসোর্স নেয়। এতো রিসোর্স সাপোর্ট দেয়া খরচের ব্যাপার। সেই তুলনায় এক্সপি অনেক বেশী স্ট্যাবল এবং কম খরচের। এক্সপি’র জয় হোক।