চলতি বছরে আন্তর্জাতিক একটি প্রযুক্তি পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের দুই প্রতিষ্ঠান−সেলবাজার ও গ্রামীণ শক্তি। পৃথিবী জুড়েই এখন প্রযুক্তির জয়জয়কার। যাঁরা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের সম্মান জানাতেই যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির টেক মিউজিয়াম প্রতিবছর আন্তর্জাতিক পুরস্কার দিয়ে থাকে। এটি ‘টেক মিউজিয়াম অ্যাওয়ার্ড’ নামে পরিচিত। পৃথিবীতে যেসব প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভুমিকা রাখে, সেসব প্রযুক্তিকে উংসাহ দেওয়াই এ পুরস্কারের মূল উদ্দেশ্য। প্রতিবছর পাঁচটি বিভাগে মোট ২৫টি পুরস্কার দেওয়া হয়। এই পাঁচটি বিভাগ হচ্ছে শিক্ষা, সমতা (ইকুয়ালিটি), পরিবেশ, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন। প্রতিবছর প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং আবেদন করতেও বলা হয়। বিচারকদের একটি আন্তর্জাতিক প্যানেল বিভিন্ন প্রায়োগিক প্রযুক্তি বাছাই করে দেখে। এরপরই সেরা ২৫ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পুরস্কারটা পায়। প্রতিটি বিভাগ থেকে পাঁচ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রত্যেক বিজয়ীকে ৫০ হাজার ডলার করে দেওয়া হয়। বিজয়ীদের বার্ষিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরস্কার দেওয়া হয় এবং টেক লরেটস ভেনচার নেটওয়ার্কে (টিএলভিএন) যুক্ত করা হয়। টিএলভিএনের মাধ্যমে বিজয়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তাদের কাজের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়। এ পুরস্কার ২০০০ সালের নভেম্বর মাস থেকে দেওয়া হচ্ছে। পৃথিবীর শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক সংস্থা এ পুরস্কারের পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। এসবের উল্লেখযোগ্য হচ্ছে অ্যাপ্লায়েড ম্যাটেরিয়াল, জাতিসংঘ উন্নয়ন তহবিল. বিশ্বব্যাংক ইনস্টিটিউশন, মাইক্রোসফট করপোরেশন, ইন্টেল করপোরেশন, অ্যাকসেনচার ইত্যাদি। পৃষ্ঠপোষকদের নামেও বিভিন্ন পুরস্কার রয়েছে। যেমন, ইন্টেল এনভায়রনমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, অ্যাকসেনচার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট আওয়ার্ড, মাইক্রোসফট এডুকেশন অ্যাওয়ার্ড, সোয়ান সন ফাউন্ডেশন হেলথ অ্যাওয়ার্ড এবং সানডিস্ক ইকুইলিটি অ্যাওয়ার্ড।
সম্মানজনক এই পুরস্কারের তালিকায় বাংলাদেশের নাম দেখা গেছে দুইবার।টেক মিউজিয়াম পুরস্কার পেয়েছে সেলবাজার ও গ্রামীণ শক্তি।
সেলবাজার
উন্নয়নশীল দেশগুলোয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান বাধা যোগাযোগ ব্যবস্থা। গ্রামাঞ্চলে যেসব জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন, সেখানে কৃষক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে অনেক সস্তায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়। ফলে দরিদ্র কৃষক দরিদ্রই থেকে যায় এবং পাইকারি বিক্রেতা বা মধ্যস্বত্বভোগীরা এসব পণ্য শহরে বেশি দামে বিক্রি করে। এ সমস্যার সমাধানের চিন্তা করেছেন বাংলাদেশি তরুণ কামাল কাদীর। সেলবাজার মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটভিত্তিক একটি ভার্চুয়াল বাজারব্যবস্থা। এ বাজারে একটি সাধারণ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যে কেউ কোনো কিছু কিনতে বা বেচতে পারে। গ্রামীণফোনের গ্রাহকেরা একটি সাধারণ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এসএমএস করে দেশের যেকোনো স্থান থেকে পণ্যের খোঁজ নিতে পারবে, আবার অন্যকে জানানোও যাবে। ফোনের মাধ্যমেই পণ্য, পণ্যের দাম এবং মান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে। এতে বাংলা ভাষায় প্রথম আলোর শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপনও পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) পড়ার সময় একটি শ্রেণী প্রকল্প করতে গিয়ে কামাল কাদীর প্রথম সেলবাজারে ধারণা পান বলেজানান। বর্তমানে দেশে সেলবাজার অত্যন্ত জনপ্রিয়। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। সেলবাজার দল প্রতিদিনই চেষ্টা করে যাচ্ছে কীভাবে এটি সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলা যায়। এখন এসএমএস ছাড়াও ওয়াপ এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেলবাজার ব্যবহার করা যায়। এর ঠিকানা: cellbazaar.com
গ্রামীণ শক্তি
উন্নয়নশীল দেশের গ্রামাঞ্চলে যেখানে বিদ্যুৎ বা গ্যাস সংযোগ নেই, সেসব স্থানের মানুষকে কেরোসিন বা অন্যান্য জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হয়। এসব জ্বালানি ব্যবহারের খরচ অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব নয় এবং ক্যান্সারের মতো রোগ সৃষ্টি করে। গ্রামীণ শক্তি এ সমস্যা সমাধানে সৌরশক্তিনির্ভর ‘সোলার হোম সিস্টেম’ চালু করেছে। এর মাধ্যমে সহজে বায়োগ্যাস তৈরির পদ্ধতি, উন্নতমানের স্টোভ ব্যবহারের পদ্ধতি গ্রামের নারীদের শেখানো হয় এবং ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীরা সোলার হোম কিনতে পারে। সোলার হোম সিস্টেম বসিয়ে এবং মেরামত করে গ্রামীণ অনেক মহিলা এখন স্বাবলম্বী। এ ছাড়া সৌরশক্তির সাহায্যে তারা মুঠোফোন এবং রেডিওর মাধ্যমে যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ করছে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথমআলো
লেখাটির সম্পর্কে মন্তব্য করুন
You must be logged in to post a comment.
সাম্প্রতিক মতামত