বিশ্বের অন্যতম বড় একটি হার্ডডিস্ক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমন ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে হার্ডডিস্কটির ক্রেতারা সেখানে সংরক্ষিত ফাইল অনলাইনে আদান-প্রদান করতে পারবে না। হার্ডডিস্ক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল জানিয়েছে, সফটওয়্যার চুরি (পাইরেসি) ঠেকাতেই তারা গান ও শব্দের (অডিও) ফাইল আদান-প্রদান করার ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে। ফাইলগুলো কপিরাইট আইনে সংরক্ষিত না থাকলেও বা তা ব্যবহারকারীর নিজের তৈরি হলেও হার্ডডিস্কে রাখা এ ধরণের কোনো ফাইলই আদান-প্রদান করা যাবে না। তবে সমালোচকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে সফটওয়্যার চুরির বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে গ্রাহকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। ডিজিটাল দুনিয়ায় ই-বুক, সংগীত, টিভি অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র পর্যন্ত সব ধরনের ফাইল বিশ্বজুড়ে আদান-প্রদান করা হচ্ছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। এর মাধ্যমে কপিরাইট আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এসব উপাদানের নির্মাতারা। কপিরাইট আইন বাস্তবায়নের জন্য এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় পন্থা হচ্ছে ডিজিটাল অধিকার ব্যবস্থাপনা (ডিআরএম)। এ ব্যবস্থাপনায় সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের সাহায্যে গান, অডিও বা ভিডিও ফাইলগুলোর নিয়ন্ত্রিণ নিশ্চিত করা হবে। ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল ব্যবহারকারীদের ৩০টির বেশি ভিন্ন ভিন্ন ফাইল আদান-প্রদানে বাধা দেবে। অবশ্য এর জন্য ওই কোম্পানির সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে। ডিআরএম যুক্ত উপাদানের সবচেয়ে বড় সমস্যা যে এগুলো ভিন্ন কোনো মাধ্যম সমর্থন করে না। যেমন বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন মিউজিক স্টোর আইটিউনস থেকে কেনা ও সংগ্রহ করা সংগীত কেবল আইপড বা অ্যাপলের নিজস্ব যান্ত্রিক ব্যবস্থায় চলে। ডিআরএমবিরোধী জোট ফ্রি সফটওয়্যার ফাউন্ডেশনের পিটার ব্রাউন বলেন, ‘ওয়েস্টার্ন ডিজিটালের মতো প্রতিষ্ঠান আমাদের কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। সমাজের জন্য ডিআরএম ক্ষতিকর। কারণ এটি পর্যবেক্ষণ করে আমরা কী করছি এবং আমরা আমাদের ডিজিটাল জীবন কীভাবে কাটাচ্ছি। এটা আমাদের নাগরিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। এভাবে কপি করা কখনোই বন্ধ করা যাবে না।’
তথ্যসূত্র:দৈনিক প্রথম আলো
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে গত বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে তৃতীয় বিশ্ব জ্ঞান সম্মেলন (জিকে থ্রি)। গ্লোবাল নলেজ পার্টনারশিপ (জিকেপি) আয়োজিত এই জ্ঞান সম্মেলনে সারা বিশ্বের ‘উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি’ ধারণায় অঙ্গীকারবদ্ধ সাড়ে তিন হাজার বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের ব্যক্তি অংশ নেন। বিকেলের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন জিকেপির সভাপতি ওয়াল্টার ফুস্ট। তিনি বলেন, নতুন এক আলোকিত পৃথিবী গড়তে তথ্যপ্রযুক্তির ভুমিকাকে আজ অনিবার্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গত এক দশকে এটি জিকেপির একটি বড় সাফল্য। যন্ত্রপাতি ক্রয়ের সীমাবদ্ধতা থেকে আজ মানুষ একে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করতে সমর্থ হচ্ছে। বেসরকারি উদ্যোগগুলো এই নির্মাণে বড় ভুমিকা রাখছে। অনুষ্ঠানে তরুণদের জন্য আয়োজিত ‘আইডিয়া ফ্যাক্টরি’তে নানারকম কাজের নমুনা দেখানো হয়। সকালে অনুষ্ঠিত কর্ম-অধিবেশনের সেমিনারগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল ই-কৃষি বিষয়ে সেমিনার। এ ছাড়া পল্লী উন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক একটি সেমিনার বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। বিশ্ব জ্ঞান সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন বুধবার অন্যান্য সেমিনারের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের আমাদের গ্রাম প্রকল্প আয়োজিত ‘উন্নয়নের জন্য জ্ঞান’ শীর্ষক উপস্থাপনামূলক সেমিনার। সুইস আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এসডিসির সহায়তায় আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ড. মিজানুর রহমান শেলী। এটি পরিচালনা করেন ইন্টারন্যাশনাল সিভিল সোসাইটি সংস্থা ফর প্রগ্রেসিভ কমিউনিকেশনের নির্বাহী পরিচালক অ্যানরিয়েট এস্তোরিয়াসম। উন্নয়নের জন্য গ্রাম বিষয়ে মূল উপস্থাপনা করেন আমাদের গ্রামের পরিচালক রেজা সেলিম। এই সেমিনারে আমাদের গ্রাম পরিচালিত বাগেরহাটের রামপাল এলাকার পরিসংখ্যানভিত্তিক তথ্যভান্ডারের মাধ্যমে গ্রামের চাহিদা বের করার মৌলিক গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি এই তথ্যভান্ডার কীভাবে যুবসমাজের জ্ঞান আহরণে সহায়তা করছে তাও তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশী এনজিও ডিনেটের কর্মসুচি পরিচালক মাহমুদ হাসান জেন্ডার মূল্যায়নবিষয়ক একটি সেমিনারে আলোচক হিসেবে অংশ নেন। জ্ঞান সম্মেলনকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক ইলেকট্রনিক মিডিয়া ফোরামের সেমিনার, উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ইত্যাদি।
তথ্যসূত্র:দৈনিক প্রথম আলো
ইন্টারনেট প্রোভাইডারদের আচরণে অব্যাহতভাবে দুঃশ্চিন্তা যুক্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এরই পরিপ্রেক্ষিতে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান একটি ওয়েব ইন্টারফেস সফটওয়্যার রিলিজ করেছে। যা অনলাইনে নিরপরাধ ব্যবহারকারী বা অবাঞ্চিত ট্রাকিক টেম্পারিং দূর করবে। সানফ্রান্সিসকো ভিত্তিক ডিজিটাল রাইটস গ্রুপ ইলেক্ট্রনিক্স ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন এই প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যারটি রিলিজ করেছে। এটা উম্মোচন করেছে ডাটা ডিসক্রিমিনেশন। যার কারণে ইন্টারনেট প্রোভাইডাররা তাদের সার্ভিসেও কিছুটা নতুনত্ব খুঁজে পাবেন। ইএফএফ এর একজন স্টাফ প্রযুক্তিবিদ সেথ স্কোয়েন এ ব্যাপারে বলেন, জনগণের এ ব্যাপারে সমস্যার একটি লম্বা তালিকা রয়েছে। কিন্তু তারা জানে না ঠিক কোথায় মিস-কনফিগারেশনগুলো ঠিক করার জন্য এট্রিবিউটগুলো যুক্ত করতে হবে অথবা আইএসপি’র মাধ্যমে আচরণ ডেলিবারেট করতে হবে। এই নতুন সফটওয়্যার ডাটা প্যাকেটের লিস্টসমূহ পরস্পর তুলনা করতে পারবে যা ২টি কম্পিউটারের মধ্যে আদান প্রদান করা হবে। সবচেয়ে বড় কথা এটা কোন কম্পিউটার ডাটা প্রেরণ করছে আর কোনটি গ্রহণ করছে তা লক্ষ্য রাখতে পারবে। এর আগে যে ব্যাপারটি ম্যানুয়ালি করা হতো। স্কোয়েন সফটওয়্যারটিকে একটি স্পেলিং চেকারের সাথে তুলনা করেন। তিনি বলেন, যদি আপনি কি করছেন সে সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারনাও না থাকে তবে এটা নিঃসন্দেহে আপনার কয়েক ডজন ঘন্টা সেভ করতে পারবে। জনগণ ইএফএফ এর সাথে যোগাযোগ করছে তাদের সমস্যা নিয়ে। তারা বলছে তাদের ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে তাদের অনলাইন কার্যক্রম বিঘিœত হচ্ছে। ইএফএফ এর প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য হচ্ছে, আইএসপি’র সামগ্রিক কার্যক্রমে ভোক্তাদের অংশগ্রহণে আরো সাহায্য করা। বার্তা সংস্থা এপি’র সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় ইন্টারনেট প্রোভাইডার কমকাস্ট কর্পোরেশন তাদের হাইস্পিড সার্ভিসে অনলাইন ফাইল শেয়ারিং এ কিছু সাবস্ক্রাইবারের উদ্যোগ যুক্ত করেছে। এক্ষেত্রে ইএফএফ তাদের নিজস্ব পরীক্ষা চালাচ্ছে। এখানে দেখা গেছে পিসি কমকাস্ট থেকে সেই মেসেজ দেখতে পাচ্ছে যা ইউজারদের থেকে ইনভিজিবল এবং একে যোগাযোগ বন্ধ করতে বলছে। যা ডাউনলোড বা আপলোড ক্যানসেল করতে পারবে।
তথ্যসূত্র:দৈনিক প্রথমআলো
ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার কারণে মাইক্রোচিপের দাম কমেছে। যার কারণে লাভবান হচ্ছেন ক্রেতারা। জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এডভান্স মাইক্রো ডিভাইস (এএমডি) এর প্রধান নির্বাহী অফিসার হেক্টর রুইজ। কোম্পানিটির তৃতীয় সিলিকন ডিজাইন এবং রিসার্চ ফ্যাসিলিটি ভারতে উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের জন্য দুঃসংবাদ ব্যবসায়িক কৌশল কতদিন পর্যন্ত ধরে রাখতে পারব এবং টাকা কামাতে পারব তার অনিশ্চয়তা। এই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিযোগিতা করা খুবই কঠিন। আমি দেখেছি মূল্য এখানে কিছুই নয় কিন্তু এখানকার সবকিছুই খুব প্রতিযোগিতামূলক। পৃথিবীর ২য় বৃহত্তম এই চিপ নির্মাতা কোম্পানি তাদের বৃহত প্রতিদ্বন্দ্বি ইন্টেলের সাথে মার্কেট শেয়ার নিয়ে অবিরত সংগ্রাম করে যাচ্ছে। যারা টানা চারটি কোয়ার্টারে ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। কোম্পানিটির সেপ্টেম্বর মাস শেষে ডেবিড ছিল ৫.০ বিলিয়ন ডলার। এই মাসে তারা ৮.১ শতাংশ স্টক বিক্রি করেছে আবুধাবি সরকারের কাছে একটি চুক্তির আওতায়। মূল্য পরিশোধের পর যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৬০৮ মিলিয়ন ডলার। রুইজ ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক এমএমডি’র সিইও মনোনীত হন ২০০২ সালে। তবে তিনি মনে করেন টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আর্থিক অবকাঠামোর জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তিনি বলেন, আমরা এমন এক ইন্ডাস্ট্রিতে আছি যার রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু কৌশল ও প্রয়োগ। কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সতর্ক করে দিয়ে বলেছিল এই খাতে গতি হ্রাস ক্রমশই দৃশ্যমান হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে তিনি উপরোক্ত কথাটি বলেন। তিনি এর সাথে আরো যুক্ত করেন, প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আমরা গতি মন্থরতার কোন কিছু দেখছি না। বছরের ৩য় চারমাসে যুক্তরাষ্ট্রের ইকোনোমিতে যদিও ৩.৯ শতাংশ হারে গতি এসেছে তবুও ফেডারেল রিজার্ভ এবং একক অর্থনীতিবিদগণ মনে করেন, শেষ ৪ মাসে ও ২০০৮ সালে সামগ্রিক অবস্থার গতি কমে আসতে পারে। ইন্ডিয়ার ইনফরমেশন-টেকনোলজি কোম্পানিগুলো এক্ষেত্রে ক্রমশই যুক্তরাষ্ট্রের সফটওয়্যার রপ্তানিকারকদের চাপে ফেলে দিচ্ছে। যারা গত বছর ৩১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে।
তথ্যসূত্র:দৈনিক ইত্তেফাক
মাইক্রোসফটের অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ভিসতা থেকে একটি ‘অ্যান্টি পাইরেসি টুল’ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। উইন্ডোজ ভিসতার গ্রাহকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘কিল সুইচ’ নামে পরিচিত এ প্রোগ্রামটি ভিসতার অবৈধ কপি ব্যবহারকারীদের ভিসতার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করতে বাধা দিত। কিন্তু উইন্ডোজ ভিসতার অনেক বৈধ ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন, এটি তাদের বৈধ কপিও অচল করে দিচ্ছে। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে মাইক্রোসফট প্রোগ্রামটি সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। মাইক্রোসফট জানায়, ‘অ্যান্টি পাইরেসি টুল’ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি কার্যকর হবে উইন্ডোজ ভিসতার সার্ভিস প্যাক ১ ছাড়ার পর।
যাঁরা উইন্ডোজ ভিসতাসহ নতুন কম্পিউটার কেনেন, তাঁদের অনলাইনে মাইক্রোসফটের কাছ থেকে তাদের কপিটি যে আসল, তা নিশ্চিত করতে হয়। উইন্ডোজ জেনুইন অ্যাডভানটেজ নামের একটি অনলাইন প্রোগ্রাম কপিটি আসল কি না, তা খতিয়ে দেখে। যদি মনে হয়, কপিটি নকল, তবে এ প্রোগ্রামটি ভিসতাকে অকার্যকর করে দিতে পারে। কিন্তু ভিসতার অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন, তাঁদের বৈধভাবে কেনা ভিসতার কপিটিও নকল বলে মনে করছে টুলটি। মাইক্রোসফটের করপোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক সিভার্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এখন থেকে ভিসতার যেসব অবৈধ কপি শনাক্ত করা হবে, তাদের জানিয়ে দেওয়া হবে যে তাদের ভিসতা আসল নয়। তাদের বৈধভাবে ভিসতা ব্যবহারের কথা স্নরণ করিয়ে দেওয়া হবে। তাদের ভিসতার কোনো বৈশিষ্ট্য থেকে বঞ্চিত করা হবে না।’ মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ভিসতার পাইরেসি রোধে ব্যবস্থা নেওয়ায় সুফল পাওয়া গেছে। উইন্ডোজ এক্সপির চেয়ে উইন্ডোজ ভিসতার নকল কম হয়েছে। সিভার্ট বলেন, টুলটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও মাইক্রোসফটের নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। উইন্ডোজ ভিসতার ক্রেতাদের এখনো তাদের কপিটির বৈধতার অনুমোদন নিতে হবে। বিভিন্ন সময়ে কপিটির বৈধতার প্রমাণ দিতে হবে। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, তারা গত বছর মাইক্রোসফটের পণ্য নকলকারী প্রায় এক হাজার ডিলারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। অনলাইনের প্রায় ৫০ হাজার নকল সফটওয়্যার নিলামকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো
বিমানের ইঞ্জিন প্রস্তুতকারক ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রোলস রয়েসের অভ্যন্তরীণ কম্পিউটার নেটওয়ার্কে হামলা চালিয়েছে চীনা হ্যাকাররা। দ্য টাইমস পত্রিকা গতকাল সোমবার এ কথা জানায়। অজ্ঞাতপরিচয় নিরাপত্তা সুত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, চলতি বছরের গোড়ার দিকে কম্পিউটার হ্যাকাররা এই হামলা চালায়। এতে রোলস রয়েসের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়েছিল। তবে হ্যাকাররা প্রতিষ্ঠানটির স্পর্শকাতর ফাইলগুলো খুলতে পারেনি। টাইমস জানায়, অ্যাংলো-ডাচ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ডাচ তদন্ত করে দেখেছে, প্রবাসী একদল চীনা হ্যাকার এই হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে এই হ্যাকারদের ঘাঁটি অবস্থিত। হ্যাকাররা রোলস রয়েসের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় প্রবেশ করার চেষ্টা করে। তারা নেটওয়ার্কের খুব বেশি গভীরে প্রবেশ করতে না পারলেও এটা রোলস রয়েসের জন্য বড় ধরনের হুমকি। তবে রোলস রয়েস ও রয়্যাল ডাচ এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এর আগে রোলস রয়েসের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে বিশেষভাবে তৈরি ট্রোজান হর্স ঘরানার ভাইরাস দিয়ে হামলা চালানো হয়। এই ট্রোজার্ন হর্স প্রোগ্রাম যে কাউকে যে অন্য কম্পিউটারে প্রবেশের অধিকার দেয়। টাইমস পত্রিকা জানায়, চীনা হ্যাকারদের এই দলটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে আক্রমণ চালিয়ে আসছে। এই হ্যাকাররা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো
ইন্টারনেট শাসন বা ইন্টারনেটের পরিচালন-পদ্ধতি কী হবে−এ নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইন্টারনেটের সব কার্যকলাপ মার্কিন সংস্থা আইকানের নিয়ন্ত্রণে। একক নিয়ন্ত্রণ ইন্টারনেটের সর্বজনীন ও সর্বগামী ব্যবহারের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে এমন আশঙ্কা থেকেই বিতর্ক। বিভিন্ন দেশ চাচ্ছে এর সর্বজনীন ব্যবহার নিশ্চিত করতে। তাই তো তিউনিসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের তথ্য সমাজ শীর্ষ সম্মেলনের চুড়ান্ত পর্বে গঠন করা হয় ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম।এ ফোরাম বিভিন্ন দেশ, বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়ে ইন্টারনেট শাসনের একটি সর্বজনীন নীতিমালার সুপারিশ করবে।সম্প্রতি ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হলো আইজিএফের দ্বিতীয় সভা। ২০০৩ সালের জেনেভা তথ্য সমাজ শীর্ষ সম্মেলনের অমীমাংসিত ‘ইন্টারনেট শাসন’ অর্থাং ইন্টারনেট গভর্নেন্স বিতর্ক ২০০৫ সালে তিউনিস শীর্ষ সম্মেলনে চুড়ান্ত রূপ নেয় ‘ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম’ বা আইজিএফ গঠনের মাধ্যমে। প্রকৃতপক্ষে, আইজিএফ ইন্টারনেট শাসনবিষয়ক রাষ্ট্রপুঞ্জের বিতর্ককে আরও বিস্তৃত করে। যদিও মনে করা হয়েছিল এর মাধ্যমে বিষয়টির আপাত মীমাংসা হলো ও ফোরাম ক্রমাগত আলোচনার মধ্যে দ্রুত এর সহজ সমাধানের পথ তৈরি করে দেবে। উল্টোদিকে আইজিএফের ম্যান্ডেট বা কার্যপরিধি কেবল গুরুত্ব দিয়েছে সুপারিশ প্রণয়নে, কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ভুমিকা ওখানে রাখা হয়নি।
আইজিএফ বিতর্ক কী নিয়ে?
আমরা জানি যে ইন্টারনেট পরিচালনায় প্রধান ভুমিকা হলো এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ই-মেইল বা ইন্টারনেট প্রটোকলের ঠিকানা। ইন্টারনেটের মৌলিক ব্যবহারে এই ঠিকানা কিনে নিতে হয়। তথ্যপ্রযুক্তির বর্তমান পর্যায়ে সংখ্যাবাচক (নিউমেরিক) ও ঘোষণাবাচক (এক্সপ্রেসিভ) ঠিকানার সমন্বয়কের মূল দায়িত্ব পালন করে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বাণিজ্যিক কোম্পানি− যার নাম ইন্টারনেট করপোরেশন ফর অ্যাসাইন্ড নেমস অ্যান্ড নাম্বারস বা ‘আইকান’। তথ্যপ্রযুক্তির ক্রমপ্রসার, উৎকর্ষ ও ইন্টারনেটের ইতিবাচক সুফল ব্যবহারে এই প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণের যাবতীয় ক্ষমতা এককভাবে কুক্ষিগত থাকবে, এটি অন্য দেশগুলো বা খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অনেকে মানতে নারাজ। মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রবক্তা দেশের এই প্রতিষ্ঠান কিছুতেই তার এ ব্যবসা হারাতে রাজি নয়, আর তার পাশে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। বিশেষ করে দুরনিয়ন্ত্রণ মহাকাশব্যবস্থায় বাণিজ্যিক স্বার্থকে সমন্বয় করে মার্কিন অর্থনীতিতে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ ব্যবসা যেখানে অন্যতম মুখ্য ভুমিকা পালন করছে, সেখানে এর ভুমিকা গঠন হয়ে পড়ুক তা যুক্তরাষ্ট্র সহজে চাইবে না।
নাম-ঠিকানা ও এর মহাকাশ-অবস্থানের মৌলিক এবং কারিগরি পরিধির নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও অন্যান্য বিতর্কের কারণগুলো হলো−এসবের ব্যবহারিক মূল্য নির্ধারণ, মূল্য নিয়ন্ত্রণ, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের বিপরীতে আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণে বা ঠিকানা তৈরি, সহজ অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধকতা বজায় রাখা। সর্বোপরি ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনাকে সর্বজনগ্রাহ্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনা কাঠামোতে নিয়ে যেতে সর্বাত্মক আপত্তি সৃষ্টি।
জাতিসংঘের ভুমিকা
তথ্য সমাজ শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম পর্যায়ের অমীমাংসিত বিতর্ককে চুড়ান্ত বিতর্কের সহজ সমাধান দেন তংকালীন মহাসচিব কফি আনান। তিনি সব দেশকে এই বিতর্কে ক্রমাগত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিউনিস পর্বে। আইজিএফ গঠন করে তিনি ঐতিহাসিক এক পটভুমি তৈরি করে দেন জাতিসংঘের অন্যান্য সহায়ক শক্তিকে। যেমন−সুশীল সমাজ, ব্যবসায় সমাজ ও সংবাদমাধ্যমকে এই বিতর্কে অংশগ্রহণের সম্মিলিত মর্যাদা দেন, যাতে এই চারপক্ষ বিষয়টির খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করে দেশগুলোকে আরও গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথনির্দেশ তৈরি করে দিতে পারে। উল্লেখ্য, তিউনিস ঘোষণাপত্র ও কর্মপরিকল্পনায়ও এ বিষয়টি যুক্ত হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের দপ্তর এই বিতর্ক সভার অভিভাবকত্বও গ্রহণ করে।
আইজিএফ বিতর্কের প্রথম সভা
এথেন্স ২০০৬
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে আইজিএফের প্রথম সভা ২০০৬ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় মূল আলোচনা ছিল এর কার্যপরিধি সুনিয়ন্ত্রণ ও বিষয়বস্তু (কনটেন্ট) নির্ধারণ নিয়ে। দুটি বিষয়ের সমাধান মেলে এথেন্স বিতর্কে। আইজিএফ তার অভ্যন্তরীণ মেরুকরণের ঝুঁকি এড়াতে বৃহত্তর পরিধিতে কাজ করবে, যাতে ফোরাম যথেষ্ট পরিমাণে সংগঠিত হয়ে বিকাশের পথ পায়। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণে আইজিএফ বিতর্ক সভাগুলো আরও বেশিসুযোগ তৈরি করে দেবে, যার প্রতিফলন পরবর্তী সভাগুলোতে পাওয়া যাবে।
আইজিএফ বিতর্কের দ্বিতীয় সভা
রিও ডি জেনেরিও ২০০৭
ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনেরিওতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো আইজিএফের দ্বিতীয় সভা। প্রথম সভার কার্যপরিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী এবারের সভায় প্রায় ১০০টি কর্মশালা, সেমিনার ও সমান্তরাল অধিবেশনের আয়োজন করা হয়। দেশগুলো মূল পরিকল্পনা সভায় অপেক্ষা করেছে এর আগে অনুষ্ঠিত কর্মশালাগুলোর প্রতিবেদন পেতে। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়েছে সফল কিছু উদাহরণ নিয়ে এক প্রদর্শনী।
আইজিএফের বর্তমান বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু
রিও-তে অনুষ্ঠিত আইজিএফ সভায় ইন্টারনেট গভর্নেন্স বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু আবর্তিত হয়েছে ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে কী কী সম্পদ সম্পৃক্ত, সে সবের ওপর। আর এই সম্পদের ব্যবস্থাপনায় বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো কী ধরনের অভিজ্ঞতা ও প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে, তা চিহ্নিত করা হয়েছে এ সভায়। চিহ্নিত বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে ইন্টারনেট শাসন পদ্ধতির বিদ্যমান ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা পরিমার্জনের সুপারিশপত্র তৈরি করা হয়েছে এবারের সভায়। ফলে অন্তত এই একটি জরুরি ক্ষেত্রে সর্বজনীন বাস্তবতার রূপরেখা পাওয়া গেছে। তা ছাড়া শিশুদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট জগং, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য ইন্টারনেটের সুশাসনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সুপারিশমালা তৈরি হয়েছে, যা ক্রমান্বয়ে একটি আন্তর্জাতিক সহনশীল সুশাসন পদ্ধতির দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে পারছে। ফলে সবার সুপারিশ কোনো একক কর্তৃত্বের বিপরীতে কতটা শক্তিশালী ভুমিকা রাখতে পারবে, তা-ই এখন এক নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এই বিতর্কে আইজিএফের প্রথম জয় ডট ট্রিপল এক্স (.xxx) ডোমেইন ঠিকানা বরাদ্দ থেকে আইকানকে বিরত রাখতে পারা।
বাংলাদেশ ও আইজিএফ
তথ্য সমাজ শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ের হয়ে থাকলেও এর কার্যকরী প্রভাব দেশের নানামুখী কর্মকান্ডে দেখা যায়নি। বাংলাদেশের কোনোভাবেই জাতিসংঘের মৌলিক বিতর্কের পরিধি থেকে নিজেকে দুরে সরিয়ে রাখা উচিত নয়। আন্তর্জাতিক বিতর্কে সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের মেধাচর্চার জন্য যেমন সহায়ক, তেমনি বৈশ্বিক ও সর্বজনীন সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশ, সমর্থন দান দেশের ভাবমূর্তিকে সমুজ্জ্বল করে। বিশেষ করে আইজিএফ বিতর্কে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ী সমাজের অংশগ্রহণ সরকারি খাতের জন্য সম্পুরক ভুমিকা পালন করতে পারে। আগামীতে আইজিএফ সভা দিল্লি ও কায়রোতে অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ২০০৮ ও ২০০৯ সালে। সরকার এখনই উদ্যোগী হলে বিশ্ব বিতর্কে বাংলাদেশ সক্রিয় থাকবে এবং তার প্রতিফলন অবশ্যই দেশে তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়ন খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেখা যাবে।
তথ্যসূত্র:দৈনিক প্রথম আলো
পরিবেশ দুষণ রোধে এখন পশ্চিমা বিশ্বে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি বা সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হলো এসব জ্বালানির দাম প্রচলিত জ্বালানি যেমন তেল, কয়লা বা গ্যাসের চেয়ে বেশি পড়ে। সবুজ জ্বালানি উংপাদন খরচ কমিয়ে আনার জন্য সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। গুগলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিনিয়োগের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিবেশবান্ধব উপায়ে অনেক বেশি বিদ্যুং উংপাদন করতে চাই।’ তিনি সবুজ প্রযুক্তিতে এক গিগাওয়াট বিদ্যুং উংপাদন করার কথা বলেন। এক গিগাওয়াট বিদ্যুংকেন্দ্র দিয়ে সানফ্রান্সিসকোর মতো একটি শহরের বিদ্যুং চাহিদা মেটানো যাবে। গুগল জানায়, তারা সৌরবিদ্যুং, বায়ুকল থেকে উংপাদিত বিদ্যুং ও জিওথার্মাল বিদ্যুংকেন্দ্র গড়তে বিনিয়োগ করবে। এ জন্য গুগল এ খাতে অভিজ্ঞ ২০ থেকে ৩০ জন প্রকৌশলীকে কাজে লাগাবে। গুগল আশা করছে, এসব বিদ্যুংকেন্দ্র থেকে উংপাদিত বিদ্যুতের দাম কয়লা থেকে উংপাদিত বিদ্যুতের চেয়ে কম পড়বে। গুগলের আরেক প্রতিষ্ঠাতা সার্গেই ব্রিন বলেন, ‘সস্তা সবুজ জ্বালানি পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অনেক স্থানে এটি অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।’ ল্যারি পেজ আশা করছেন কয়েক বছরের মধ্যেই সবুজ বিদ্যুতের উংপাদন শুরু হবে। আর এর প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের খরচ প্রচলিত বিদ্যুতের তুলনায় কম হবে। গুগলের জনসেবামূলক খাত গুগলডটঅরগের মাধ্যমে এ বিনিয়োগ করা হবে। গুগলডটঅরগ আগে থেকেই স্বাস্থ্যসেবা ও দারিদ্র্য নিয়ে কাজ করছে। সবুজ জ্বালানি নিয়ে তারা ইতিমধ্যেই ক্যালিফোর্নিয়ার ইসোলার ইনক ও মাকানি পাওয়ার ইনকের সঙ্গে কাজ করা শুরু করেছে। গুগলের প্রতিষ্ঠাতারা জানিয়েছেন ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্টের সবুজ জ্বালানির কোম্পানি হওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই। তবে এ খাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশীদার তারা হতে পারে। গুগলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ব্রিন পাঁচ বছর আগে নিজের জন্য একটি হাইব্রিড গাড়ি কেনেন। তাঁর ও পেজের জন্য কেনা জেট বিমানটিকে নিয়ে এখন অস্বস্িথতে আছেন তাঁরা। কারণ নিজের গাড়ির পরিবেশ দুষণ রোধ করতে পারলেও নিজের বিমানের দুষণ কমাতে পারছেন না। ব্রিন বলেন, ‘আমরা জেট বিমানের জন্য জৈব ডিজেলের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের কথা শুনেছি। প্রযুক্তি সব সমস্যার সমাধান দেবে বলে আমি আশা করছি।’
তথ্যসূত্র:দেনিক প্রথম আলো
সময়ের সাথে সাথে বিশ্বব্যাপী স্বল্পমূল্যের ল্যাপটপ পিসির জনপ্রিয়তা ক্রমশই বাড়ছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কম্পিউটার শিক্ষায় শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এই নোটবুক পিসি বা ল্যাপটপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আসুসটেক কোম্পানি এ ধরনের ল্যাপটপ তৈরি করে থাকে। তাইওয়ানের এই কম্পিউটার কোম্পানিটি আশা করছে আগামী বছরের মধ্যে সারা বিশ্বব্যাপী তারা ৫ মিলিয়ন নতুন ই-পিসি বিক্রি করতে সক্ষম হবে। কোম্পানিটির একজন সিনিয়র কর্মকর্তা সম্প্রতি এ কথা জানিয়েছেন। এর ফলে তাদের বিক্রি পূর্বের অবস্থান থেকে দুই তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পাবে। আসুসটেক সম্প্রতি শিশুদের জন্য একটি নতুন ধরনের ই-পিসি বাজারজাত করেছে। সাশ্রয়ী মূল্যের এই নোটবুক পিসির মাধ্যমে তারা তাদের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলতে চাইছে। উত্তর আমেরিকাতে তাদের এই পিসির গ্রহনযোগ্যতা দারুণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। যেখানে তাদের মার্কেট শেয়ার ১ শতাংশ পিছিয়ে ছিল। নতুন ধরনের এই নোটবুক পিসি বা ল্যাপটপের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসুসটেকের ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন লিন সাংবাদিকদের জানান, প্রতিমাসে প্রায় ২০ হাজার ই-পিসি বিক্রি হচ্ছে। এ সময় লিন তার কোম্পানির নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কথা সবাইকে অবহিত করেন। নতুন এই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আসুসটেক ২০০৮ সালের ভেতর প্রায় ৩ লক্ষ্য ই-পিসি বিক্রি করবে। ই-পিসি আসুসটেক ব্র্যান্ডের নাম বহন করে। এক্ষেত্রে তারা প্রতিযোগিতা করছে এসার কোম্পানির সাথে। এজন্য বিশ্বব্যাপী তাদের ব্র্যান্ডকে আরো জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে তারা এই ল্যাপটপকে ডেভেলপ করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কোম্পানিটি আশা করছে, তাদের এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালের ভেতরে তারা পৃথিবীর পঞ্চম বৃহং ল্যাপটপ পিসি তৈরিকারক কোম্পানিতে পরিণত হতে পারবে। আসুসটেকের শেয়ার ১.৮ শতাংশ থেকে তাইওয়ান ডলার ৯৮.৭০তে পড়ে গিয়েছিল। যা মূল টিএআইইএক্স শেয়ার ইনডেক্স এর ০.৬ শতাংশ। এই ব্র্যান্ডের ব্যবসায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তাইওয়ানীজ কোম্পানিটি মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হবে এসার এবং ইলেক্ট্রনিক্স তৈরিকারক কোম্পানি হন হেই প্রেসিশন ইন্ডাষ্ট্রি কর্পোরেশনের কাছ থেকে। বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং সাইডে। শুধুমাত্র নিজেদের ব্র্যান্ড নেম কম্পিউটারই নয়, আসুসটেক ল্যাপটপ তৈরি করে অ্যাপল এবং ডেল ইনকর্পোরেশনের জন্যও। উল্লেখ যে, এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে তাইওয়ান ডলারের মূল্য ৩২.৩।
তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
সাম্প্রতিক মতামত