গুগলের এ্যাডসেন্স ব্যবহারকারীদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ নিয়ে এলো একটি নতুন ফোরাম । শেয়ার ডট আইডিয়া টু ডেস নামের এ ফোরামে নিবন্ধিত হয়ে এ্যাডসেন্স শেয়ারিং অপশনে নিজের পি.ইউ.বি নাম্বার দিতে হবে। তাহলে এ ফোরামের তিনটি ইউনিটেই প্রদর্শিত হবে ব্যাবহারকারীর এ্যাড। ফলে তিনি নিজ ওয়েব সাইট ছাড়াও তাঁর এ্যাড প্রদর্শনের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় করার সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশ থেকে এটাই প্রথম গুগলের বিজ্ঞাপন থেকে আয় ভাগাভাগির ফোরাম। এখানে যত বেশি লেখা পাঠানো যাবে, আয়ও তত বেশি হবার সম্ভাবনা থাকবে। সাইটের ঠিকানা: htp://share.ideatodays.comতথ্যসূত্র: দৈনক ইত্তেফাক
মাতৃভাষায় নজিরে কম্পিউটারটি দেখতে অনেকেই ইচ্ছুক। মাইক্রোসফট করপোরশেন ইন্টারনেটে বাংলা ল্যাংগুয়জে প্যাক ছাড়লেও জেনুয়্যেনে উইন্ডোজের কারনে অনেকে ব্যবহার করতে পারনে নি। এমন একটি ওয়বে সাইট পাওয়া গেছে যেখানে আপনার উইন্ডোজ জেনুয়্যেন করা এবং বাংলা ল্যাংগুয়জে প্যাকটি ইনস্টল পদ্ধতি বিস্তারিত র্বননা করা হয়েছে। উল্লখ্যে সাইটটি র্বতমানে পরীক্ষামূলক সংস্করনে রয়েছে। ঠিকানা: http://bangla.efair21.com
শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘুর্ণিঝড় সিডরে ক্ষয়ক্ষতির সর্বশেষ সংবাদ জানা যাবে খাদ্য ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে। ঠিকানা: http://www.mofdm.gov.bd/
ওয়েবসাইটের ‘অ্যালার্ট’ বিভাগে আপনি দুর্যোগের প্রতিদিনের হালনাগাদ তথ্য পাবেন। যেমন: ১৯ নভেম্বর রাত নয়টার হালনাগাদ করা তথ্য অনুযায়ী ঘুর্ণিঝড়ে এ পর্যন্ত মোট মানুষ মারা গেছে দুই হাজার ৬২৫ জন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুই হাজার ৬২ জন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ১০ লাখের বেশি, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪১ লাখ। এ ধরনের সব তথ্য পিডিএফ ফাইল আকারে থাকায় নিজের কম্পিউটারে সেইভ করে রাখা যাবে। তবে তথ্যগুলো ইংরেজিতে থাকায় ইংরেজি জানেন না এমন মানুষের কাজে লাগবে না তথ্যগুলো। হয়তো এ কারণেই হালনাগাদ তথ্যের এ সাইটটি এ পর্যন্ত মাত্র সাড়ে চার হাজার লোক দেখেছেন। কম মানুষের ভিজিট করার আরেকটি কারণ হতে পারে, মানুষ জানেই না সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়ের এমন চমৎকার একটি ওয়েবসাইট রয়েছে।
ত্রাণ বিতরণ নীতিমালা
ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত অভাবী ও দুঃখী মানুষের জন্য এখন দরকার ত্রাণ। খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের ডান দিকে দৃষ্টিগ্রাহ্যভাবে লেখা রয়েছে: হোয়াটস নিউ। অর্থাৎ নতুন কী। এ বিভাগে সরকারের ‘ত্রাণ বিতরণ নীতিমালা’টি প্রকাশ করা হয়েছে। লেখাটির ওপর মাউস নিয়ে ক্লিক করলে আপনি নতুন পাতায় ‘ত্রাণ বিতরণ নীতিমালা ২০০৭’ পাবেন। এর অধীনে মোট আটটি ফাইল রয়েছে। সব পিডিএফ ফাইল। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, ত্রাণ বিতরণ নীতিমালার সব ফাইল বাংলায়। এগুলো যুগ্ম সচিব স্বাক্ষরিত সরকারি পরিপত্র। জনগণের অধিকারসংক্রান্ত সরকারি নথি এভাবে জনগণের কাছে প্রকাশ করার জন্য খাদ্য ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় নিঃসন্দেহে ধন্যবাদ পেতে পারে। তবে ত্রাণ নীতিমালার একটি সারসংক্ষেপ সহজ করে লেখা থাকলে জনগণ আরও বেশি উপকৃত হতে পারত। এ নীতিমালা থেকে জানা যায়, সরকার কালবৈশাখী, ঘুর্ণিঝড়, অগ্নিকান্ড, বন্যা, ভুমিকম্প, নদীভাঙন, সড়ক দুর্ঘটনা, লঞ্চ, ট্রলার ডুবি ইত্যাদি বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক সাহায্য হিসেবে বিভিন্ন ধরনের মঞ্জুরি দেয়। যেমন: গৃহ বাবদ, নগদ অর্থ, সাধারণ ত্রাণ হিসেবে চাল ও খাদ্যশস্য, কম্বল, চাদর, শীতবস্ত্র, ঢেউটিন ইত্যাদি সাহায্য দেয়। এ ধরনের সাহায্য পাওয়া আমাদের দুর্যোগ আক্রান্ত মানুষের অধিকার। এখানে সবার জানার সুবিধার্থে নীতিমালা থেকে কয়েকটি বিষয় সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো। যেমন: গৃহবাবদ মঞ্জুরি হিসেবে একটি পরিবার সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা পাবে। জিআর ক্যাশ (নগদ অর্থ) বরাদ্দ/বণ্টনের নীতিমালা অনুযায়ী অসচ্ছল প্রতিটি পরিবার সর্বোচ্চ ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পাবে। অন্যদিকে আহত ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া যাবে। জিআর চাল/খাদ্যশস্য বরাদ্দ/বণ্টনের নীতিমালা অনুযায়ী পরিবারপ্রতি এককালীন সর্বোচ্চ ২০ কেজি খাদ্যশস্য (চাল/গম) পাওয়া যাবে আর ঢেউটিন বরাদ্দ/বণ্টনের নীতিমালা অনুযায়ী পরিবারপ্রতি এক থেকে দুই বান্ডিল ঢেউটিন। তবে সাধারণভাবে কোনো পরিবারকে ১০ বছরের মধ্যে দুই বান্ডিলের বেশি ঢেউটিন দেওয়া যাবে না। এখানে আরও বলা হয়েছে, অনুর্ধ্ব তিন হাজার টাকা মাসিক আয়ের লোকদের গৃহনির্মাণ সহায়তার জন্য ও দেশের সামাজিক কাঠামো সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এক থেকে দুই বান্ডিল ঢেউটিন বরাদ্দ পাওয়া যাবে। সব ধরনের বরাদ্দের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি যেমন−চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, পৌরসভার কমিশনার, চেয়ারম্যানের সুপারিশ থাকতে হবে। জেলা প্রশাসককে ত্রাণ দেওয়ার ক্ষেত্রে জেলাপর্যায়ে ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একটি কেন্দ্রীয় ত্রাণ নিয়ন্ত্রণকক্ষ রয়েছে, যার যোগাযোগ ফোন নম্বর হলো: ৮৮০-২-৭১৬৫৮৩২, ৮৮০-২-৭১৬২১১৬, ৮৮০-২-৭১৬০৪৫৪ ও ৮৮০-২-৭১৬৪১১৫
ওয়েবসাইটটির প্রথম পাতায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কে একটি ভুমিকা রয়েছে। এ ভুমিকাটি যথেষ্ট দুর্বল। অনেক কথাই সেখানে বলা হয়েছে, কিন্তু দরকারি কথা নেই। মন্ত্রণালয়ের তিনটি দপ্তর রয়েছে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিনটি পৃথক দপ্তর রয়েছে। ওয়েবসাইটের এজেন্সি শিরোনামের বোতামে ক্লিক করলে আপনি দেখবেন দপ্তর তিনটির নাম দেওয়া আছে। এগুলো হলো−দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো (www.dmb.gov.bd), ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর (www.drr.gov.bd) এবং খাদ্য অধিদপ্তর (www.dgfood.gov.bd)। আপনি দপ্তরগুলোর মধ্যে যেকোনোটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার জন্য ওই নির্দিষ্ট দপ্তরের ওয়েবসাইট দেখতে পারেন।
উন্নয়ন কর্মকান্ডসংক্রান্ত তথ্য
মন্ত্রণালয় দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা লক্ষ্যে কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে বিষয়টি আপনি ‘উন্নয়ন কার্যক্রম’ পাতা থেকে জানতে পারবেন। এখান থেকে আপনি জানতে পারবেন বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার অধীনে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে সর্বমোট ২১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি কাজ করা হবে, যার মধ্যে গ্রামের রাস্তাঘাট সংযুক্ত করার লক্ষ্যে ছোট ছোট ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা, সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা, জাতীয় খাদ্য নীতিমালাসংক্রান্ত সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্প, ভুমিকম্পসহ অন্যান্য ধরনের দুর্যোগ নিরূপণ ও উদ্ধারকার্যক্রম পরিচালনার জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করার মতো কাজ রয়েছে।
খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত ওয়েবসাইটটির একটি বাংলা সংস্করণ এখন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তৈরি করা দরকার। সেই সঙ্গে নিত্যপ্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার এ দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা খাদ্য সমস্যার সমাধানে সরকার কী করছে, সে সম্পর্কিত তথ্যও এখানে থাকা দরকার।
তথ্যসুত্র: দৈনিক প্রথমআলো
সাম্প্রতিক মতামত