Jul 07

গত ৪ জুলাই বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) আউটসোর্সিং অপরচুনিটি ইন ইউকে ফর সফটওয়্যার অ্যান্ড আইটি সার্ভিসেস শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে মূল বক্তব্য দেন ইউকে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ডিপার্টমেন্ট এবং ম্যাঞ্চেস্টার চেম্বার অফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের ট্রেড অ্যাডভাইজর মিস্টার টনি ব্রাউন।

সেমিনারের শুরুতেই তিনি বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত পরিবেশনের মাধ্যমে পরিষ্কার করলেন বাংলাদেশ এমন একটি সম্ভাবনাময় দেশ যারা ইওরোপিয়ান দেশের সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চারে কাজ করলে দেশের আইটি খাতকে আরো সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এক্সপোর্ট প্রমোশন বুরোর (ইপিবি) ডিরেক্টর জেনারেল মিস্টার ফরিদুল ইসলাম। এছাড়াও বাংলাদেশে বৃটিশ হাই কমিশনের ইউকে ট্রেড ও ইনভেস্টমেন্টের ডিরেক্টর মিস্টার কেভিন রিংহ্যাম বক্তব্য দেন বিশেষ অতিথি হিসেবে। মিস্টার কেভিন বলেন, বাংলাদেশের আইটি খাতকে বৃটেনের কম্পানিগুলোর সঙ্গে সমন্বিত করাই তার মিশন এবং এখানে এ অল্প দিনেই তিনি বুঝেছেন সম্ভাবনার কথাটা মিথ্যা নয়। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বেসিসের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রফিকুল ইসলাম, ডিরেক্টর নুরুল কবির ও বেসিসের অন্য সদস্যরা।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিশ্বে এখনো প্রায় ১৭ হাজার কোটি ডলারের আউটসোর্সিং মার্কেট রয়েছে। বেসিস এ লক্ষ্যে গত মাসে বিটম্যাপ নামে একটি প্রজেক্ট চালু করেছে। ইওরোপিয়ান কমিশনের আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ ইনফরমেশন টেকনলজির ম্যানেজমেন্ট (বিটম্যাপ) প্রোগ্রামের লক্ষ্য দেশের আইটি খাতকে আরো দক্ষভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

(সৌজন্যে দৈনিক যায়যায়দিন)

Jun 28

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিবেদক||
বাংলায় একটা ভাল বাংলা স্পেলচেকারের অভাব কম্পিউটার ব্যবহারকারী মাত্রই অনুভব করেন। বর্তমানে বাংলা প্রকাশনা শিল্প সম্পুর্ন কম্পিউটার নির্ভর হয়ে গেছে। শুধু প্রকাশনা শিল্পই নয়, প্রায় সব ধরনের বাংলা ব্যবহারকারীই ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের জন্য কম্পিউটারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। কারণ কম্পি্উটার হলো সেই প্রযুক্তি যা আমাদের বাংলা প্রক্রিয়াকরণের কাজে বহু জটিলতার অবসান ঘটিয়েছে।
কম্পিউটার দিয়ে সহজে লেখা যায়। বিভিন্ন রকম ফন্ট ব্যবহার করা যায়। ফরমেটিং করা যায় ইচ্ছা মতো। এজন্য ওয়ার্ড প্রসেসরের সঙ্গে ব্যবহার উপযোগী বেশ কিছু বাংলা কিবোর্ড ইন্টারফেস এবং ফন্টও পাওয়া যায়। কিন্তু বানান সঠিক করার একটা সমস্যা এখনও রয়েই গেছে। প্রতিটি টাইপ করা ডকুমেন্টকেই ছাপার আগে প্রুফ দেখে নিতে হয়। এটা খুবই সময়ক্ষেপী একটা প্রক্রিয়া।
একটা ভাল স্পেলচেকার সফটওয়্যার কম্পিউটার ভিত্তিক বানান পরীক্ষণে সময়ের সাশ্রয় ঘটাবে নাটকীয়ভাবে।  ঠিক এ কাজের জন্যই তৈরি করা হয়েছে শুদ্ধশব্দ ১.০ বাংলা স্পেলচেকার। সফটওয়্যারটি ডেভেলপ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ছাত্র জাহিদুল ইসলাম রবি।
শুদ্ধশব্দ অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির একটি বাংলা স্পেলচেকার। এটি বহুল ব্যবহৃত মাইত্রেক্রাসফ্ট ওয়ার্ডের সঙ্গে ব্যবহার করা যাবে। ফলে এখন থেকে প্রয়োজন হলেই কম্পিউটারের সাহায্য নিয়ে বানান সংশোধন করা যাবে যা বাঁচিয়ে দেবে ব্যবহারকারীর বহু মুল্যবান সময় এবং শ্রম।
স্পেলচেকার কী
স্পেলচেকার হলো এক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম যা কম্পিউটারের স্মৃতিতে রক্ষিত শব্দের অভিধান ব্যবহার করে শব্দের বানান পরীক্ষা করে। এখানে শব্দ বলতে বোঝায় একটি জ্যোতিচিহ্ন থেকে আরেকটি  জ্যোতিচিহ্নের মধ্যবর্তী অক্ষরের সমষ্টি। বাংলায় স্পেলচেকারকে শব্দবীক্ষণ যন্ত্রও বলা যেতে পারে। বানান পরীক্ষার ক্ষেত্রে স্পেলচেকার যদি শব্দটি রক্ষিত বানান অভিধানে না পায় তবে শব্দটিকে ভুল হিসেবে চিহ্নিত করে।স্পেলচেকারের আরেকটি কাজ হলো ভুল হিসেবে চিহ্নিত শব্দটির সম্ভাব্য সঠিক শব্দের পরামর্শ তালিকা তৈরি করা। এ পরামর্শ তালিকা তৈরি করতে স্পেলচেকার ধ্বনিতাত্ত্বিক, রূপতাত্ত্বিক, শব্দের সম্পাদনার দুরুত্ব, ব্যবহারকৃত কিবোর্ড এবং ব্যাকরণসহ আরও অনেক বিষয়াদি বিবেচনা করে। পরামর্শের তালিকা প্রণয়নের পর সেগুলোকে আবার নৈকট্যের মাত্রা অনুসারে সাজায়। পরামর্শ তালিকা সাধারণত যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত রাখা হয়।
শুদ্ধশব্দ কী
শুদ্ধশব্দশ্ব একটি বাংলা স্পেলচেকার। এটি মাইত্রেক্রাসফ্ট ওয়ার্ডের অ্যাড-ইন হিসেবে ডেভালপ করা হয়েছে। যাতে মাইত্রেক্রাসফ্ট ওয়ার্ডে বাংলা টেক্সটের বানান পরীক্ষা করা যায়। এটি ইনস্টল করার পর মাইত্রেক্রাসফ্ট ওয়ার্ড-এ দুটি বাটন তৈরি করে, যথা: ক) ইধহমষধ ঝঢ়বষষরহম খ) গধৎশ ঊৎৎড়ৎ ডড়ৎফং। যে কোন একটি বাটন ক্লিক করলেই স্পেলচেকারটি লোড হবে এবং কারসরের অবস্খান থেকে ডকুমেন্টর শেষ পর্যন্ত বানান পরীক্ষা করবে। প্রথম বাটনটি ক্লিক করলে স্পেলচেকার ডায়ালগ বক্স আসবে যা ভুল শব্দ পেলেই বানান পরীক্ষা ব করে দেবে এবং ভুল শব্দের জন্য সম্ভাব্য সঠিক শব্দের একটি পরামর্শ তালিকা করবে। এরপর ব্যবহারকারীর নির্দেশ অনুযায়ী ভুলশব্দটি সংশোধন করবে অথবা পরবর্তী ভুল শব্দটি অনুসান করবে। দ্বিতীয় বাটনটি ক্লিক করলে, স্পেলচেকারটি কারসর অবস্খান থেকে ডকুমেন্টের শেষ পর্যন্ত টাইপের ভুল হওয়া শব্দগুলোকে নীল এবং বানানের ভুল হওয়া শব্দগুলোকে লাল রঙ দিয়ে চিহ্নিত করবে।
বৈশিষ্ট্য
এর শব্দভাণ্ডারে রয়েছে ১, ০৬, ০০০ এরও বেশি শব্দ। এর ভেতর ৬৫, ০০০ ত্রিক্রয়াপদ নয়, এমন শব্দ, ৩৬, ০০০ ক্রিয়াপদ এবং ৫০০০ এরও বেশি অন্যান্য শব্দ রয়েছে। এ শব্দভাণ্ডারটি প্রণীত হয়েছে সóþöূর্ণ আধুনিক বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে।
নিজের তৈরি এ  স্পেলচেকার সফটওয়্যার সম্পর্কে রবি বলেন, আমি লিখতে গেলে প্রচুর বানান ভুল করতাম। বাংলা কম্পোজ করার পর ইংরেজির মতো বাংলা শুদ্ধ না করতে পারার অসুবিধাটা যে কোন ব্যবহারকারীর মতো আমিও অনুভব করতাম। তা থেকেই বানান সংশোধনের জন্য একটা সফট্ওয়্যার তৈরি করার তাগিদ অনুভব করি। তিনি বলেন, বাংলা ভাষার জন্য প্রয়োজন এরকম অন্যান্য প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করা। ভবিষ্যতে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলো মানুষের ব্যবহারের জন্য তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া এবং প্রযুক্তিগুলোর আরও উন্নয়ন ঘটানোর লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।

(দৈনিক সংবাদ)