Nov 30

igf-logo.gifইন্টারনেট শাসন বা ইন্টারনেটের পরিচালন-পদ্ধতি কী হবে−এ নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইন্টারনেটের সব কার্যকলাপ মার্কিন সংস্থা আইকানের নিয়ন্ত্রণে। একক নিয়ন্ত্রণ ইন্টারনেটের সর্বজনীন ও সর্বগামী ব্যবহারের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে এমন আশঙ্কা থেকেই বিতর্ক। বিভিন্ন দেশ চাচ্ছে এর সর্বজনীন ব্যবহার নিশ্চিত করতে। তাই তো তিউনিসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের তথ্য সমাজ শীর্ষ সম্মেলনের চুড়ান্ত পর্বে গঠন করা হয় ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম।এ ফোরাম বিভিন্ন দেশ, বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়ে ইন্টারনেট শাসনের একটি সর্বজনীন নীতিমালার সুপারিশ করবে।সম্প্রতি ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হলো আইজিএফের দ্বিতীয় সভা। ২০০৩ সালের জেনেভা তথ্য সমাজ শীর্ষ সম্মেলনের অমীমাংসিত ‘ইন্টারনেট শাসন’ অর্থাং ইন্টারনেট গভর্নেন্স বিতর্ক ২০০৫ সালে তিউনিস শীর্ষ সম্মেলনে চুড়ান্ত রূপ নেয় ‘ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম’ বা আইজিএফ গঠনের মাধ্যমে। প্রকৃতপক্ষে, আইজিএফ ইন্টারনেট শাসনবিষয়ক রাষ্ট্রপুঞ্জের বিতর্ককে আরও বিস্তৃত করে। যদিও মনে করা হয়েছিল এর মাধ্যমে বিষয়টির আপাত মীমাংসা হলো ও ফোরাম ক্রমাগত আলোচনার মধ্যে দ্রুত এর সহজ সমাধানের পথ তৈরি করে দেবে। উল্টোদিকে আইজিএফের ম্যান্ডেট বা কার্যপরিধি কেবল গুরুত্ব দিয়েছে সুপারিশ প্রণয়নে, কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ভুমিকা ওখানে রাখা হয়নি।

আইজিএফ বিতর্ক কী নিয়ে?
আমরা জানি যে ইন্টারনেট পরিচালনায় প্রধান ভুমিকা হলো এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ই-মেইল বা ইন্টারনেট প্রটোকলের ঠিকানা। ইন্টারনেটের মৌলিক ব্যবহারে এই ঠিকানা কিনে নিতে হয়। তথ্যপ্রযুক্তির বর্তমান পর্যায়ে সংখ্যাবাচক (নিউমেরিক) ও ঘোষণাবাচক (এক্সপ্রেসিভ) ঠিকানার সমন্বয়কের মূল দায়িত্ব পালন করে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বাণিজ্যিক কোম্পানি− যার নাম ইন্টারনেট করপোরেশন ফর অ্যাসাইন্ড নেমস অ্যান্ড নাম্বারস বা ‘আইকান’। তথ্যপ্রযুক্তির ক্রমপ্রসার, উৎকর্ষ ও ইন্টারনেটের ইতিবাচক সুফল ব্যবহারে এই প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণের যাবতীয় ক্ষমতা এককভাবে কুক্ষিগত থাকবে, এটি অন্য দেশগুলো বা খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অনেকে মানতে নারাজ। মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রবক্তা দেশের এই প্রতিষ্ঠান কিছুতেই তার এ ব্যবসা হারাতে রাজি নয়, আর তার পাশে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। বিশেষ করে দুরনিয়ন্ত্রণ মহাকাশব্যবস্থায় বাণিজ্যিক স্বার্থকে সমন্বয় করে মার্কিন অর্থনীতিতে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ ব্যবসা যেখানে অন্যতম মুখ্য ভুমিকা পালন করছে, সেখানে এর ভুমিকা গঠন হয়ে পড়ুক তা যুক্তরাষ্ট্র সহজে চাইবে না।
নাম-ঠিকানা ও এর মহাকাশ-অবস্থানের মৌলিক এবং কারিগরি পরিধির নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও অন্যান্য বিতর্কের কারণগুলো হলো−এসবের ব্যবহারিক মূল্য নির্ধারণ, মূল্য নিয়ন্ত্রণ, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের বিপরীতে আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণে বা ঠিকানা তৈরি, সহজ অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধকতা বজায় রাখা। সর্বোপরি ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনাকে সর্বজনগ্রাহ্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনা কাঠামোতে নিয়ে যেতে সর্বাত্মক আপত্তি সৃষ্টি।

জাতিসংঘের ভুমিকা
তথ্য সমাজ শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম পর্যায়ের অমীমাংসিত বিতর্ককে চুড়ান্ত বিতর্কের সহজ সমাধান দেন তংকালীন মহাসচিব কফি আনান। তিনি সব দেশকে এই বিতর্কে ক্রমাগত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিউনিস পর্বে। আইজিএফ গঠন করে তিনি ঐতিহাসিক এক পটভুমি তৈরি করে দেন জাতিসংঘের অন্যান্য সহায়ক শক্তিকে। যেমন−সুশীল সমাজ, ব্যবসায় সমাজ ও সংবাদমাধ্যমকে এই বিতর্কে অংশগ্রহণের সম্মিলিত মর্যাদা দেন, যাতে এই চারপক্ষ বিষয়টির খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করে দেশগুলোকে আরও গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথনির্দেশ তৈরি করে দিতে পারে। উল্লেখ্য, তিউনিস ঘোষণাপত্র ও কর্মপরিকল্পনায়ও এ বিষয়টি যুক্ত হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের দপ্তর এই বিতর্ক সভার অভিভাবকত্বও গ্রহণ করে।

আইজিএফ বিতর্কের প্রথম সভা
এথেন্স ২০০৬
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে আইজিএফের প্রথম সভা ২০০৬ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় মূল আলোচনা ছিল এর কার্যপরিধি সুনিয়ন্ত্রণ ও বিষয়বস্তু (কনটেন্ট) নির্ধারণ নিয়ে। দুটি বিষয়ের সমাধান মেলে এথেন্স বিতর্কে। আইজিএফ তার অভ্যন্তরীণ মেরুকরণের ঝুঁকি এড়াতে বৃহত্তর পরিধিতে কাজ করবে, যাতে ফোরাম যথেষ্ট পরিমাণে সংগঠিত হয়ে বিকাশের পথ পায়। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণে আইজিএফ বিতর্ক সভাগুলো আরও বেশিসুযোগ তৈরি করে দেবে, যার প্রতিফলন পরবর্তী সভাগুলোতে পাওয়া যাবে।

আইজিএফ বিতর্কের দ্বিতীয় সভা
রিও ডি জেনেরিও ২০০৭
ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনেরিওতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো আইজিএফের দ্বিতীয় সভা। প্রথম সভার কার্যপরিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী এবারের সভায় প্রায় ১০০টি কর্মশালা, সেমিনার ও সমান্তরাল অধিবেশনের আয়োজন করা হয়। দেশগুলো মূল পরিকল্পনা সভায় অপেক্ষা করেছে এর আগে অনুষ্ঠিত কর্মশালাগুলোর প্রতিবেদন পেতে। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়েছে সফল কিছু উদাহরণ নিয়ে এক প্রদর্শনী।

আইজিএফের বর্তমান বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু
রিও-তে অনুষ্ঠিত আইজিএফ সভায় ইন্টারনেট গভর্নেন্স বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু আবর্তিত হয়েছে ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে কী কী সম্পদ সম্পৃক্ত, সে সবের ওপর। আর এই সম্পদের ব্যবস্থাপনায় বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো কী ধরনের অভিজ্ঞতা ও প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে, তা চিহ্নিত করা হয়েছে এ সভায়। চিহ্নিত বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে ইন্টারনেট শাসন পদ্ধতির বিদ্যমান ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা পরিমার্জনের সুপারিশপত্র তৈরি করা হয়েছে এবারের সভায়। ফলে অন্তত এই একটি জরুরি ক্ষেত্রে সর্বজনীন বাস্তবতার রূপরেখা পাওয়া গেছে। তা ছাড়া শিশুদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট জগং, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য ইন্টারনেটের সুশাসনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সুপারিশমালা তৈরি হয়েছে, যা ক্রমান্বয়ে একটি আন্তর্জাতিক সহনশীল সুশাসন পদ্ধতির দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে পারছে। ফলে সবার সুপারিশ কোনো একক কর্তৃত্বের বিপরীতে কতটা শক্তিশালী ভুমিকা রাখতে পারবে, তা-ই এখন এক নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এই বিতর্কে আইজিএফের প্রথম জয় ডট ট্রিপল এক্স (.xxx) ডোমেইন ঠিকানা বরাদ্দ থেকে আইকানকে বিরত রাখতে পারা।

বাংলাদেশ ও আইজিএফ
তথ্য সমাজ শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ের হয়ে থাকলেও এর কার্যকরী প্রভাব দেশের নানামুখী কর্মকান্ডে দেখা যায়নি। বাংলাদেশের কোনোভাবেই জাতিসংঘের মৌলিক বিতর্কের পরিধি থেকে নিজেকে দুরে সরিয়ে রাখা উচিত নয়। আন্তর্জাতিক বিতর্কে সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের মেধাচর্চার জন্য যেমন সহায়ক, তেমনি বৈশ্বিক ও সর্বজনীন সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশ, সমর্থন দান দেশের ভাবমূর্তিকে সমুজ্জ্বল করে। বিশেষ করে আইজিএফ বিতর্কে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ী সমাজের অংশগ্রহণ সরকারি খাতের জন্য সম্পুরক ভুমিকা পালন করতে পারে। আগামীতে আইজিএফ সভা দিল্লি ও কায়রোতে অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ২০০৮ ও ২০০৯ সালে। সরকার এখনই উদ্যোগী হলে বিশ্ব বিতর্কে বাংলাদেশ সক্রিয় থাকবে এবং তার প্রতিফলন অবশ্যই দেশে তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়ন খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেখা যাবে।
তথ্যসূত্র:দৈনিক প্রথম আলো

Nov 23

sidr-satellite-1115-md.jpgকিছুদিন আগেও ‘সিডর’ শব্দের সঙ্গে পরিচয় ছিল না। এখন এই সিডরের সঙ্গে এ দেশের মানুষ শুধু পরিচিতই নয়, সিডরকে আলাদাভাবে আতঙ্কময় স্নৃতি হিসেবে বয়ে বেড়াবে আরও অনেক দিন। এই ভয়াবহ ঘুর্ণিঝড় ব্যাপক ক্ষতি করেছে দেশের উপকুলীয় অঞ্চলের। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রায় প্রতি বছরই ঘুর্ণিঝড় হওয়ার আশঙ্কা থাকে। উত্তরে হিমালয় এবং সমুদ্র উপকুল ফানেল বা চোঙাকৃতির হওয়ার কারণে এ দেশ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে পড়ে। সাধারণত বঙ্গোপসাগর থেকে সৃষ্ট ঘুর্ণিঝড়গুলো ভারতের উপকুলবর্তী এলাকা হয়ে মিয়ানমারে চলে যায়। ভৌগোলিক কারণে কোনো ঘুর্ণিঝড় বাংলাদেশে চলে এলে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয় উপকুলবর্তী এলাকায়। কারণ, সেখানে জনবসতি বেশি এবং বাড়িঘর ঘুর্ণিঝড় ঠেকাতে পারে না। এসব ঘুর্ণিঝড় সৃষ্টির সময় থেকে আঘাত হানা এবং তার পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখন প্রযুক্তির সাহায্যে জানা যায়।
দেশে স্পারসো (বাংলাদেশ স্পেস রিসার্চ অ্যান্ড রিমোট সেনসিং অরগানাইজেশন) আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এসব তথ্য সংগ্রহ করে। স্পারসোর এক তথ্য বিবরণীতে জানা যায়, ১৮৯১ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে মোট ১৭৪টি বড় ঘুর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়। ১৯৮০ সালের আগে বাংলাদেশে ঘুর্ণিঝড় শনাক্তকরণের যন্ত্র বা প্রতিষ্ঠান ছিল না। সে বছরই প্রথম স্পারসো গঠন করা হয়। এরপর বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যত ঘুর্ণিঝড় গেছে তার সবই এ প্রতিষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করেছে। সাধারণত দেখা যায়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘুর্ণিঝড়গুলো আসে আন্দামান দীপপুঞ্জ থেকে। এর কারণ, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের আশপাশের এলাকাকে আইটিসিজেড (ইন্টার ট্রপিক্যাল কনভারজেন্ট জোন) বলা হয়। এ কারণেই প্রধানত বঙ্গোপসাগরে ঘুর্ণিঝড়ের উৎপত্তি হয়। ঘুর্ণিঝড় প্রথমে লঘু নিম্নচাপ আকারে সৃষ্টি হয়, এরপর নিম্নচাপ এবং গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘুর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়।
স্পারসো দুটি কৃত্রিম উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) ব্যবহার করে। যেগুলোর মাধ্যমে ঘুর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে আগাম তথ্য পাওয়া যায়। একটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নোয়া, এতে দুই ধরনের ব্যবস্থা আছে−জিওস্টেশনারি (মহাকাশে স্িথর অবস্থায় থাকে) ও পোলার অরবিটিং (ঘুর্ণায়মান) কৃত্রিম উপগ্রহ। জিওস্টেশনারি কৃত্রিম উপগ্রহ পৃথিবী থেকে ২২ হাজার ২৪০ মাইল এবং পোলার অরবিটিং স্যাটেলাইট ৫৪০ মাইল দুরে অবস্থান করে। নোয়া স্যাটেলাইট থেকে স্পারসো প্রতিদিন দুটি করে স্যাটেলাইট ছবি পায়। আরেকটি স্যাটেলাইট হচ্ছে এফওয়াইটুসি। এটি একটি আবহাওয়াবিষয়ক কৃত্রিম উপগ্রহ। এ বছরই প্রথম ঘুর্ণিঝড় শনাক্তকরণের কাজে স্পারসো এটি ব্যবহার করেছে।
এফওয়াইটুসি থেকে প্রতি ঘণ্টায় ছবি পাওয়া যায়। ফলে ঘুর্ণিঝড়ের অবস্থান খুব সহজেই নির্ণয় করা যায়। এ দুটি কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবহারের ফলে আট থেকে ১০ মাইল দুরের ঘুর্ণিঝড়ের অবস্থান নির্ণয় করা যায়। স্পারসো ১২ নভেম্বর থেকেই সিডরের ওপর নজর রেখেছিল। প্রতি ঘণ্টায় সিডরের অবস্থান ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে জানানো হচ্ছিল। আগে থেকেই প্রস্তুতি থাকার ফলে অন্যবারের ঘুর্ণিঝড়ের চেয়ে এবার ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়েছে। স্পারসোর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল কাদের জানান, ‘বর্তমানে স্পারসো যে দুটি স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে, এগুলোর মাধ্যমে যেকোনো ঘুর্ণিঝড় অনেক আগে থেকেই শনাক্ত করা যাবে। এ ছাড়া নোয়ার মাধ্যমে ঘুর্ণিঝড়-পরবর্তী বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও তথ্য জানা যায়।’ তবে এ ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। আকাশে মেঘ থাকলে নোয়া ছবি তৈরি করতে পারে না। কারণ, এ ধরনের স্যাটেলাইট অনেকটা ক্যামেরার মতো কাজ করে। আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে ছবি তৈরি করে, এ জন্য সুর্যের আলোর প্রয়োজন হয়। এ সমস্যার সমাধান করা যায় যদি মাইক্রোওয়েভ স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হয়। স্পারসোর এ ধরনের কোনো স্যাটেলাইট নেই। এ ধরনের কৃত্রিম উপগ্রহ স্টেশন ব্যবহারের জন্য আলাদা করে ভুমিতে অবস্থিত (গ্রাউন্ড) স্টেশনের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশে এ ধরনের স্যাটেলাইটের একটি গ্রাউন্ড স্টেশন বসানো হলে ঘুর্ণিঝড়, বন্যাসহ যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের তথ্য আরও সঠিকভাবে জানা যাবে বলেআবহাওয়া বিজ্ঞানীরা মনে করেন। বর্তমানে বাংলাদেশে যে ধরনের ঘুর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র আছে সেগুলোতে প্রযুক্তিগত কোনো সুবিধা নেই। ১৯৯৯ সালে ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কমিটির প্রতিবেদনে যে ধরনের আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির কথা বলা হয়েছে, বাস্তবে তার কোনোটাই মানা হয়নি বলে জানা যায়।

ইন্টারনেটে দুর্যোগের ছবি ও তথ্য
বড় বড় ওয়েবসাইটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তথ্য পাওয়া যায়। সিডরের তথ্যও প্রকাশ করেছে প্রায় সব বড় ওয়েবসাইট। বিবিসি, সিএনএন, এপি, এএফপির মতো সংবাদভিত্তিক সাইটগুলো ঘুর্ণিঝড় ও ঘুর্ণিঝড়-পরবর্তী বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্থ অবজারভেটরি, ইয়াহু! ইমেজ ইত্যাদি ওয়েবসাইটে সিডরের বিভিন্ন ছবি প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া ভিডিও আদান-প্রদানের ওয়েবসাইট ইউটিউবে খোঁজ (করলেই) সিডরের ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্গত মানুষের বিভিন্ন ভিডিও দেখা যাবে।

গুগল আর্থ: গুগল আর্থ একটি সফটওয়্যার। এটির মাধ্যমে কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গার ছবি দেখা যায়। গুগল আর্থের মাধ্যমে সিডরের অবস্থান দেখা গেছে ১৪ নভেম্বরের আগে থেকেই। এ ছাড়া আবহাওয়াবিষয়ক বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে আবহাওয়াবিষয়ক বিভিন্ন ফাইল নামিয়ে গুগল আর্থে চালানো যায়। এসব ফাইলকে গুগল আর্থের কেএমএল ফাইল বলা হয়। ঘুর্ণিঝড়ের পরে গুগল আর্থে বঙ্গোপসাগরের শান্ত পরিবেশও দেখা গেছে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথমআলো

Nov 23

gob.GIFশত বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘুর্ণিঝড় সিডরে ক্ষয়ক্ষতির সর্বশেষ সংবাদ জানা যাবে খাদ্য ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে। ঠিকানা: http://www.mofdm.gov.bd/
ওয়েবসাইটের ‘অ্যালার্ট’ বিভাগে আপনি দুর্যোগের প্রতিদিনের হালনাগাদ তথ্য পাবেন। যেমন: ১৯ নভেম্বর রাত নয়টার হালনাগাদ করা তথ্য অনুযায়ী ঘুর্ণিঝড়ে এ পর্যন্ত মোট মানুষ মারা গেছে দুই হাজার ৬২৫ জন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুই হাজার ৬২ জন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ১০ লাখের বেশি, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪১ লাখ। এ ধরনের সব তথ্য পিডিএফ ফাইল আকারে থাকায় নিজের কম্পিউটারে সেইভ করে রাখা যাবে। তবে তথ্যগুলো ইংরেজিতে থাকায় ইংরেজি জানেন না এমন মানুষের কাজে লাগবে না তথ্যগুলো। হয়তো এ কারণেই হালনাগাদ তথ্যের এ সাইটটি এ পর্যন্ত মাত্র সাড়ে চার হাজার লোক দেখেছেন। কম মানুষের ভিজিট করার আরেকটি কারণ হতে পারে, মানুষ জানেই না সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়ের এমন চমৎকার একটি ওয়েবসাইট রয়েছে।

ত্রাণ বিতরণ নীতিমালা
ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত অভাবী ও দুঃখী মানুষের জন্য এখন দরকার ত্রাণ। খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের ডান দিকে দৃষ্টিগ্রাহ্যভাবে লেখা রয়েছে: হোয়াটস নিউ। অর্থাৎ নতুন কী। এ বিভাগে সরকারের ‘ত্রাণ বিতরণ নীতিমালা’টি প্রকাশ করা হয়েছে। লেখাটির ওপর মাউস নিয়ে ক্লিক করলে আপনি নতুন পাতায় ‘ত্রাণ বিতরণ নীতিমালা ২০০৭’ পাবেন। এর অধীনে মোট আটটি ফাইল রয়েছে। সব পিডিএফ ফাইল। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, ত্রাণ বিতরণ নীতিমালার সব ফাইল বাংলায়। এগুলো যুগ্ম সচিব স্বাক্ষরিত সরকারি পরিপত্র। জনগণের অধিকারসংক্রান্ত সরকারি নথি এভাবে জনগণের কাছে প্রকাশ করার জন্য খাদ্য ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় নিঃসন্দেহে ধন্যবাদ পেতে পারে। তবে ত্রাণ নীতিমালার একটি সারসংক্ষেপ সহজ করে লেখা থাকলে জনগণ আরও বেশি উপকৃত হতে পারত। এ নীতিমালা থেকে জানা যায়, সরকার কালবৈশাখী, ঘুর্ণিঝড়, অগ্নিকান্ড, বন্যা, ভুমিকম্প, নদীভাঙন, সড়ক দুর্ঘটনা, লঞ্চ, ট্রলার ডুবি ইত্যাদি বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক সাহায্য হিসেবে বিভিন্ন ধরনের মঞ্জুরি দেয়। যেমন: গৃহ বাবদ, নগদ অর্থ, সাধারণ ত্রাণ হিসেবে চাল ও খাদ্যশস্য, কম্বল, চাদর, শীতবস্ত্র, ঢেউটিন ইত্যাদি সাহায্য দেয়। এ ধরনের সাহায্য পাওয়া আমাদের দুর্যোগ আক্রান্ত মানুষের অধিকার। এখানে সবার জানার সুবিধার্থে নীতিমালা থেকে কয়েকটি বিষয় সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো। যেমন: গৃহবাবদ মঞ্জুরি হিসেবে একটি পরিবার সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা পাবে। জিআর ক্যাশ (নগদ অর্থ) বরাদ্দ/বণ্টনের নীতিমালা অনুযায়ী অসচ্ছল প্রতিটি পরিবার সর্বোচ্চ ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পাবে। অন্যদিকে আহত ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া যাবে। জিআর চাল/খাদ্যশস্য বরাদ্দ/বণ্টনের নীতিমালা অনুযায়ী পরিবারপ্রতি এককালীন সর্বোচ্চ ২০ কেজি খাদ্যশস্য (চাল/গম) পাওয়া যাবে আর ঢেউটিন বরাদ্দ/বণ্টনের নীতিমালা অনুযায়ী পরিবারপ্রতি এক থেকে দুই বান্ডিল ঢেউটিন। তবে সাধারণভাবে কোনো পরিবারকে ১০ বছরের মধ্যে দুই বান্ডিলের বেশি ঢেউটিন দেওয়া যাবে না। এখানে আরও বলা হয়েছে, অনুর্ধ্ব তিন হাজার টাকা মাসিক আয়ের লোকদের গৃহনির্মাণ সহায়তার জন্য ও দেশের সামাজিক কাঠামো সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এক থেকে দুই বান্ডিল ঢেউটিন বরাদ্দ পাওয়া যাবে। সব ধরনের বরাদ্দের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি যেমন−চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, পৌরসভার কমিশনার, চেয়ারম্যানের সুপারিশ থাকতে হবে। জেলা প্রশাসককে ত্রাণ দেওয়ার ক্ষেত্রে জেলাপর্যায়ে ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একটি কেন্দ্রীয় ত্রাণ নিয়ন্ত্রণকক্ষ রয়েছে, যার যোগাযোগ ফোন নম্বর হলো: ৮৮০-২-৭১৬৫৮৩২, ৮৮০-২-৭১৬২১১৬, ৮৮০-২-৭১৬০৪৫৪ ও ৮৮০-২-৭১৬৪১১৫

ওয়েবসাইটটির প্রথম পাতায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কে একটি ভুমিকা রয়েছে। এ ভুমিকাটি যথেষ্ট দুর্বল। অনেক কথাই সেখানে বলা হয়েছে, কিন্তু দরকারি কথা নেই। মন্ত্রণালয়ের তিনটি দপ্তর রয়েছে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিনটি পৃথক দপ্তর রয়েছে। ওয়েবসাইটের এজেন্সি শিরোনামের বোতামে ক্লিক করলে আপনি দেখবেন দপ্তর তিনটির নাম দেওয়া আছে। এগুলো হলো−দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো (www.dmb.gov.bd), ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর (www.drr.gov.bd) এবং খাদ্য অধিদপ্তর (www.dgfood.gov.bd)। আপনি দপ্তরগুলোর মধ্যে যেকোনোটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার জন্য ওই নির্দিষ্ট দপ্তরের ওয়েবসাইট দেখতে পারেন।

উন্নয়ন কর্মকান্ডসংক্রান্ত তথ্য
মন্ত্রণালয় দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা লক্ষ্যে কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে বিষয়টি আপনি ‘উন্নয়ন কার্যক্রম’ পাতা থেকে জানতে পারবেন। এখান থেকে আপনি জানতে পারবেন বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার অধীনে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে সর্বমোট ২১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি কাজ করা হবে, যার মধ্যে গ্রামের রাস্তাঘাট সংযুক্ত করার লক্ষ্যে ছোট ছোট ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা, সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা, জাতীয় খাদ্য নীতিমালাসংক্রান্ত সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্প, ভুমিকম্পসহ অন্যান্য ধরনের দুর্যোগ নিরূপণ ও উদ্ধারকার্যক্রম পরিচালনার জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করার মতো কাজ রয়েছে।
খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত ওয়েবসাইটটির একটি বাংলা সংস্করণ এখন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তৈরি করা দরকার। সেই সঙ্গে নিত্যপ্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার এ দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা খাদ্য সমস্যার সমাধানে সরকার কী করছে, সে সম্পর্কিত তথ্যও এখানে থাকা দরকার।

তথ্যসুত্র: দৈনিক প্রথমআলো

Oct 21

hussam_1029.jpgহাজার বছর ধরে এই পৃথিবী বাসস্থান দিয়ে আসছে আমাদের মতন মানুষদেরকে। আর আমরা ক্রমাগত দুষিত করে তুলছি আমাদের এই পৃথিবীকে। কিন্তু পৃথিবীর নিশ্চুপ। কোন কংগ্রেস বা পার্লামেন্টে ভোট দেবার ক্ষমতা নেই তার। ক্ষমতা নেই দুষনের বিরুদ্বে কোন র‌্যালি আয়োজন করার, এমনকি একটা হাইব্রিড গাড়ি কেনারও মতা নেই এই পৃথিবীর। কিন্তু পৃথিবী চুপ থাকুক, কাউকে না কাউকে তো কথা বলতে হবে তার হয়ে। আর কিছু মানুষ আছে যারা সারাজীবন কাজ করে এসেছে এই পৃথিবীর জন্য, একে বাসোপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য। আর তাদের এই কাজকে স্বৃকিতি দেবার জন্যই টাইম ম্যাগাজিন প্রতিবছর ঘোষনা করে আসছে ’গ্লোবাল হিরো অফ দ্যা এনভায়রনমেন্ট’ এওয়ার্ড। এবছরও টাইম ঘোষনা করেছে তাদের ’হিরো’-দের নাম। আর সেই তালিকায় এবার স্থান পেয়েছে একজন বাংলাদেশী বিজ্ঞানির নাম। আর তিনি হলেন আমেরিকার ভার্জেনিয়াতে অবস্থিত জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের এসোসিয়েট প্রফেসর ড: আবুল হাসাম। তিনি তার আবিস্কৃত খাবার পানি থেকে আর্সেনিক দুর করার জন্য তৈরী ফিল্টারের জন্য পেয়েছেন এই এওয়ার্ড। তিনি এবং তার ছোট ভাই ড: আবুল মূনির দুইজনে মিলে তৈরী করেন ’সনো ফিল্টার’ নামের এই খাবার পানির থেকে আর্সোনিক নিস্কাশন করার যন্ত্র। আর তাদের এই যন্ত্র টাইমের দৃষ্টিতে নির্বাচিত হয়েছে ২০০৭ সালের পরিবেশ বিষয়ক অন্যতম সেরা আবিস্কারে। আগামি ২৫ শে অক্টোবর প্রদান করা হবে এই পুরস্কার। আবুল হাসামের সাথে সাথে আরো পুরস্কার পেয়েছেন বিলুপ্ত সোভিয়েট ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্ভাচভ, আমেরিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং এ বছরের নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আল গোর, ব্রিটিশ রাজপুত্র প্রিন্স চার্লস, জার্মান চ্যান্সেলের এঞ্জেলা মার্কেল সহ আরো ৪৩ জন। লিডারস এন্ড ভিশনারিজ, একটিভিস্ট, সাইন্টিস্ট এন্ড ইনভেনটরস এবং মোগলস এন্ড এন্টারপ্রেনিয়ারস এই চারটি ক্যাটাগরিতে প্রদান করা হচ্ছে এওয়ার্ডগুলি । আবুল হাসামকে সাইন্টিস্ট এন্ড ইনভেনটরস ক্যাটাগরিতে আরো ৯ জনের সাথে দেয়া হচ্ছে এই এওয়ার্ড।  

ড: আবুল হাসামের গল্প

আবুল হাসামের জন্ম ১৯৫২ সালে কুষ্টিয়াতে। তিনি বড় হয়েছেন সেখানেই এবং প্রাথমিকভাবে তার পড়াশুনাও কুষ্টিয়তে । ১৯৭৫ সালে তিনি রসায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন এবং মাষ্টারস করেন একই জায়গা থেকে ১৯৭৬ সালে । তারপর ১৯৮৬ সালে পেনিসেলভেনিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ পিটসবার্গ থেকে অর্জন করেন পিএইচডি ডিগ্রি। ইউনিভার্সিটি অফ মিনিসোটার কেমিষ্ট্রি ডিপার্টমেন্ট থেকে নেন তার পোষ্ট-ডক্টরাল ট্রেনিং। ১৯৮৫ সাল থেকে তিনি কাজ করে আসছেন জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির কেমিষ্ট্রি ও বায়োকেমিষ্ট্রি ডিপার্টমেন্টে। এছাড়া তিনি রিসার্চ ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি এবং কেস ওয়েষ্টার্ন রিসার্ভ ইউনিভার্সিটিতে। ড: হাসেম এই ইউনিভার্সিটিতে আনাডারগ্রাজুয়েট ও গ্রাজুয়েট লেভেলে পড়ান কোয়ান্টিটেটিভ কেমিক্যাল এনালাইসিস, ইন্স্রুমেন্টাল এনালাইসিস, ইলেকট্রো-এনালাইটিক্যাল কেমিষ্ট্রি এবং থিওরি অফ এনালাইটিকাল প্রসেস। তিনি গবেষনা করেছেন ইলেক্ট্রো-এনালাইটিকাল কেমিষ্ট্রি, এনভায়রনমেন্টাল কেমিষ্ট্রি ও অর্গানাইজড মিডিয়ার কেমিষ্ট্রি নিয়ে। প্রথমদিকে তার কাজগুলো ছিলো মূলত নন-এক্যুয়াস মিডিয়াতে ইলেকট্রোকেমিষ্ট্রির প্রভাব, হাইড্রোজেনযুক্ত পানির স্পেকট্রোস্কোপিক ক্যারাকটারাইজেশন এবং মাইসেল ও মাইক্রোইমালশনের ব্যাপন প্রকৃতি। এছাড়া তিনি তৈরী করেন বেশ কিছু কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ইলেকট্রোকেমিক্যাল এনালাইজার, অটোমেটেড টাইট্রেশন সিস্টেম এবং বেশ মূল্যবান এক ধরনের গ্লাস ক্রোমাটোগ্রাফ যার মাধ্যমে যার মাধ্যমে তিনি জটিল কোন ধরনের মিডিয়াতে প্রবাহি পদার্থের অবস্থা পর্যবেক্ষন করতে পারেন । তার এই আবিস্কারটিই তাকে সূযোগ করে দেয় ভূগর্ভস্থ পানির অবস্থা ভালোভাবে পর্যবেন করার। বিভিন্ন জার্নাল ও বইয়ে তিনি এখন পর্যন্ত ৯০ টির মতন প্রকাশনা দিয়েছেন। তবে তিনি বিশ্বে পরিচিত তার এই আর্সেনিক ফিল্টারের জন্যই।

তার আবিস্কার
আবুল হাসামের মতে খাবার পানির বিষক্রিয়া হলো বিশ্বের সবচাইতে জঘন্য প্রাকৃতিক দূর্যোগগুলোর একটা এবং এর বিরুদ্ধে হাত গুটিয়ে বসে থাকার মতন মানুষ নন তিনি। সেজন্যই বলা যায় তার প্রায় একযুগের গবেষনার ফসল হয়ে এসেছে আর্সেনিক নিস্কাশনের এই বেশ সিম্পল ফিল্টার। তবে আর্সেনিক নিয়ে গবেষনা হাসেমের নিজের জন্য কোন অচেনা জগং ছিলো না। একজন গ্রাজুয়েট হিসেবে আমেরিকাতে ইলেকট্রোকেমিক্যাল কেমিষ্ট্রিতে তার নিজের কাজই তাকে তার নিজের জেলা কুষ্টিয়ার ভূ-গর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের মাত্রাতিরিক্ত পরিমান সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। এই একই সময়ে গঙ্গা-ব্রক্ষপুত্র রিজিয়ন এবং পশ্চিমবঙ্গে আর্সেনিক বিষক্রিয়া নিয়ে কাজ করেছেন অনেক বিজ্ঞানী আর আর্সেনিকের পরিমান সম্পর্কে এসব অঞ্চলেও তারা প্রায় একই রকমের ফলাফল পেয়েছেন । আর্সেনিকের প্রধান সমস্যা হলো এর রং, স্বাদ, গন্ধ কোনটাই নেই, তাই একে খালি চোখে এর পরিমান বোঝা সম্ভব হয় না। কিন্তু এটা শরীরে নির্ধারিত সীমার চাইতে বেশি প্রবেশ করলে নার্ভ ড্যামেজ থেকে শুরু করে ক্যান্সার পর্যন্ত ঘটাতে পারে এবং প্রত্যেক বছর বেশ কিছু মানূষের মৃত্যু হয় আর্সেনিক বিষক্রিয়ায়। তবে হাসামের গবেষনার লক্ষ্য অন্যদের চাইতে একটু ভিন্ন ছিলো আর তা হলো তিনি চেয়েছিলেন তার আবিস্কার করা যন্ত্রটি হবে সাধারন মানুষের ক্রয়মতার মধ্যে, কার্যকরী ও পরিবেশ সহনশীল। আর কারই ফসল হলো এই সনো ফিল্টার। তার এই ফিল্টারটির সাথে অনেকটাই মিল খুজে পাওয়া যাবে আর্সোনিক নিস্কাশনে এর আগে বহুল ব্যাবহৃত তিন কলসি ফিল্টারের। তার ফিল্টারে ব্যাবহার করা হয়েছে কয়েক স্তরের পদার্থ। এতে প্রাথমিক নিস্কাশনের কাজ করে ’কম্পোজিট আয়রন ম্যাট্রিক্স’ ( সিএমএ)। এই জিনিষটা তৈরী করা হয় কাষ্ট আয়রন থেকে এবং এটা বাইরে থেকে আনা লাগে না, লোকাল কারখানা থেকেই তৈরী করা যায়। প্রাথমিকভাবে ভূগর্ভস্থ আর্সেনিকের মৌলগুলো বিক্রিয়া করে সিএমএ-এর ফেরাস হাইড্রোক্সাইড আয়নের সাথে এবং অক্সিডেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আর্সেনিককে দুর করে পানি থেকে। এই ফিল্টারে আয়রন ম্যাট্রিক্সের সাথে সাথে আরো ব্যাবহার করা হয় নদীর বালু, কাঠকয়লা এবং ভেজা ইটের টুকরা যার সাহায্যে আর্সেনিকের সাথে সাথে আরো নিস্কাশন করা যায় খাবার পানিতে অবস্থিত আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ ও অন্যান্য অজৈব পদার্থগুলো। সাধারনত তিনটা বালতি একটার উপর একটা বসিয়ে তৈরী করা হয় এই সোনো ফিল্টার যেখানে তৃতীয় বালতিতে জমা হতে থাকে বিশুদ্ধ পানি। তবে গ্রামাঞ্চলের জন্য এর আরো একটা মডেল আছে যেখানে তৃতীয় বালতির বদলে সেখানে একটা কলসি বসানো হয়। এটা খাবার পানি থেকে ৯৮% পর্যন্ত আর্সেনিক ও অন্যান্য দূষিত পদার্থ নিস্কাশন করতে পারে এবং এর দাম পড়ে ২০০০-৩০০০ টাকা। একটা ফিল্টার দিয়ে দুটো পরিবার তাদের দৈনন্দিন কাজ সারতে পারে এবং একেকটা ফিল্টারের আয়ূ হলো ৫ বছরের মতন। এর আরেকটা সুবিধা হলো এই ৫ বছরে একে কোন ধরনের পরিস্কার করার দরকার হয় না। মূলত ড: আবুল হাসাম এবং তার ছোটভাই ড: আবুল মূনির দুজনে মিলে এই ফিল্টার তৈরী করলেও তাদের আরেক ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আবুল বারাকাতও কিন্তু বসে নেই। তিনি গত দশ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন আর্সেনিক বিষক্রিয়াতে আক্রান্ত মানূষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা পর্যবেক্ষন এবং এই সনো ফিল্টারকে কি করে আরো সস্তা করা যায় সেই কাজে। তবে ড: সত্যিকারার্থে আলোচনাতে আসেন এই বছরের শুরুর দিকে। গত ফেব্রুয়ারিতেই তিনি ইউ এস ন্যাশেনাল একাডেমি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে অর্জন করেন ১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ২০০৭ গ্রেঞ্জার চ্যালেঞ্জ প্রাইজ । তবে এই এক মিলিয়ন ডলারের ৭০% তিনি দান করেন দরিদ্র জনগোষ্টির ঘরে আর্সেনিক ফিল্টার পৌছে দেবার জন্য, ২৫% হলো এ বিষয়ে আরো গবেষনা করার জন্য এবং ৫% দান করেন তার নিজের ইউনিভার্সিটির ফান্ডে। এ পুরস্কারটা দেয়া হয় মূলত ইলিনয়েসে লেক ফরেষ্টে অবস্থিত গ্রেঞ্জার ফাউন্ডেশনে উদ্যেগে আর এই বছর তাদের টার্গেট ছিলো আর্সেনিক সমস্যা সমাধানে এমন একটা পরিবেশবান্ধব ও ক্রয়সাধ্য ডিভাইস তৈরী করা যা কোন ধরনের বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যাবহার না করে কাজ করে। 

বাংলাদেশের হাজারটার বেশি পরিবার এখন ব্যাবহার করছে এই সনো ফিল্টার। ড: হাসামের ইচ্ছা হলো এ ফিল্টারটাকে প্রথমে ইনডিয়া ও নেপাল এবং পরে দনি আফ্রিকাতে আর্সেনিক আক্রান্ত মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া। এক সাক্ষাতকারে হাসাম বলেন,মানূষজন তাকে বলে কিভাবে এই ফিল্টারটা ব্যাবহার করার পরে তাদের শরীরে আর্সেনিক বিষক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে আগের বিষক্রিয়ার চিহ্ন বিদায় নিয়েছে । এমনকি কোন কোন জায়গায় মহিলারা নাকি তাদের চুল ধোয়ার কাজে ব্যাবহার করছে এই পানি কারন এটা নাকি তাদের চুলকে সফট করে। তবে যাই হোক টাইমের চোখে ড: আবুল হাসাম হলেন সেই লোক যিনি বেশ ভয়ংকর একটা পরিবেশগত বিপর্যয়ের সহজ সমাধান বের করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি একে তো রক্ষা করেছেন অগনিত মানূষের জীবন তার সাথে সাথে বিশ্বের ১৩৭ মিলিয়ন মানূষকে আর্সেনিক বিষক্রিয়ার হাত থেকে মুক্ত করার পথ দেখিয়েছেন। কাজেই কেবল টাইমের চোখেই নয়, সারা বিশ্বের মানূষের চোখে ড: হাসাম হলেন সেই সব হিরোদের একজন যারা অকান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন একে মানূষের বাসযোগ্য করে তোলার কাজে।
    

Sep 10

বেশ কিছুদিন ধরেই বেশ কিছু দেশের চাইনিজ হ্যাকারদের আক্রমনের শিকার হবার খবর আসছিলো। প্রথমে আমেরিকা তারপর বৃটেন এবং জার্মানি এই আক্রমনের শিকার হয়। আর সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো ফ্রান্স ও। গত শনিবার ফ্রান্সের একজন টপ সিকিউরিটি অফিসিয়াল এমনটিই জানান এএফপি-কে। ফ্রান্সের একটা দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত এসন একটা রিপোর্টের কথা স্বীকার করে সেক্রেটারি জেনারেল অফ ন্যাশেনাল ডিফেন্স ফ্রান্সিস ডেলন বলেন, ’আমরা দেখতে পেয়েছি যে আমাদের ইনফরমেশন সিস্টেম অন্য দেশগুলোর মতন আক্রমনের লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাড়িয়েছে।captsgeslf54090907015813photo00photodefault-389×273.jpg

আমাদের কাছে প্রমান আছে যে এর পিছনে চায়নার হাত আছে। তবে চায়না বলতে আমি কখনো চাইনিজ গর্ভমেন্ট কে বোঝাচ্ছি না। তবে আমরা বুঝতে পারছি না চাইনিজ পিপলস লিবারেশন আর্মি কিভাবে করলো এই কাজটা। ’ কোন কম্পিউটার সিস্টেমগুলোকে হ্যাক করা হয়েছে সেটা জিজ্ঞাস করা হলে তিনি শুধু এটুকু জানান যে, তারা রাষ্ট্রের সার্ভিসগুলোকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তবে একটা নির্ভরযোগ্য সুত্র থেকে জানা গেছে যে, ফ্রান্সের ডিফেন্স মিনিস্ট্রির পাবলিক ইন্টারনেট সাইট হ্যাক করা হয়েছে। তবে এই সাইটে কোন গোপনীয় ইনফরমেশন ছিলো না। হ্যাকাররা আক্রমনটা চালিয়েছে ইনফরমেশন টেকনোলজির ডিফেন্স চেক করার জন্য। তবে চায়না তার আর্মির এই ধরনের যে কোন রকমের এসপিওনাজে জড়িত থাকার কথা অস্বিকার করে আসছে। গত বৃহস্পতিবার বৃটিশ সরকার চায়নাকে এই ধরনের আক্রমনে জড়িত থাকার কথা বলে সংবাদপত্রে বিবৃতি দিলে তার জবাবে চায়নার পররাষ্ট্র দপ্তরের মূখপাত্র জিয়াং ইউ বলেন, ’চাইনিজ মিলিটারি অন্য রাষ্ট্রের সরকারী নেটওয়ার্কের উপর হামলা চালাচ্ছে এমন খবর সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন এবং একই সাথে দ্বায়িত্বজ্ঞানহীন।’ এদিকে টাইমস এবং ইনডিপেনডেন্ট-এর সুত্রে জানা যায় যে, চাইনিজরা বৃটিশ গর্ভমেন্টের নেটওয়ার্কের প্রতিরাবূহ্য ভেংগে ঢুকে পড়েছে।

এদিকে পেন্টাগন দাবী করেছে যে, চাইনিজ মিলিটারি হ্যাকাররা ইউএস এর একটা ব্যাটল ক্যারিয়ারকে সাইবার এটাকের মাধ্যমে অচল করে দেবার প্লান তৈরী করেছে। চাইনিজ আর্মি তে কর্মরত দুজন হ্যাকার এই জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এ প্রসংগে ইউএস আর্মি কলেজ রিপোর্টের লেখক ল্যারি এম ওয়র্টজেল টাইমস কে জানান, ’যে জিনিষটা আমাদের সবচাইতে বেশী ভাবিয়ে তুলছে সেটা হলো বেশিরভাগ চাইনিজ মিলিটারি ম্যানূয়ালে যে দেশটির প্রতি তাদের যুদ্ধে যাবার আগ্রহের কথা বলা হয়েছে তা হলো যুক্তরাষ্ট্র। তারা সত্যিকারার্থে নতুন এক যুদ্ধ পদ্ধতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’ টাইমস থেকে আরো জানা যায় যে, চাইনিজ আর্মি মিলিটারি ট্যাকটিকসের ন্যাটো এবং ইউএস ম্যানুয়ালগুলোকে স্টাডি করে একটা ভার্চুয়াল গাইডবুক অফ ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এন্ড জ্যামিং নামে একটা বইও তৈরী করেছে। পেন্টাগন জানায় যে চাইনিজদের এই অপরেশনের নাম হলো ’ক্রিটিকাল টু সিজ দ্যা ইনিশিয়েটিভ’ আর এই অপরেশনের উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধের আগে প্রতিপরে অর্থনৈতিক, মিলিটারি এবং যোগাযোগ ব্যাবস্থার উপর আঘাত হেনে তাদের দুর্বল করে দেওয়া। পেন্টাগন আরো দাবী করছে যে গত জুনে চাইনিজ মিলিটারিরা তাদের নেটওয়ার্কে হ্যাক করার পর বেশ কিছু দেশ এবং গ্র“প তাদের নেটওয়ার্কে ঢোকার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই আক্রমনগুলো আসছে বেশ কিছু সরকারী এবং বেসরকারী সংস্থা থেকে। এদিকে জার্মান সাপ্তাহিক পত্রিকা ডার স্পাইজেল জানিয়েছে যে কাউন্সেলর এঞ্জেলা মার্কোসের অফিস, পররাষ্ট্র দপ্তর এবং অন্যান্য সরকারী সংস্থায় তারা চাইনিজ আর্মির আক্রমনের আলামত খুজে পেয়েছেন । তবে তারা এই আক্রমনের কেন্দ্রস্থল একনো খুজে বের করতে পারেননি। উল্লেখ্য চায়না আগামি ২০৫০ সালের মধ্যে তাদের সব প্রতিদ্বন্দির উপরে ইলেকট্রনিক আধিপত্য স্থাপনের যেই প্লান হাতে নিয়েছে তারই কার্যক্রম হিসেবে চালানো হচ্ছে এই সাইবার আক্রমন।

Sep 10

যখন ইউএস ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিষ্ট্রেশন(এফডিএ) মানবদেহে চিপ বসানোর ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছিলো তখন এর প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, এপ্লাইড ডিজিটাল সল্যুশনস, বলেছিলো যে এটা মানুষের জীবন বাচাবে। কারন এর সাহায্যে ডাক্তাররা যে কোন সময়ে পেসেন্টের মেডিকাল অবস্থা জেনে নিতে পারবেন। তখন এফডিএ একটা ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলো যে এটা খুব নিরাপদ একটা প্রযুক্তি। এমনকি একে একটা সাব-এজেন্সি ২০০৫ সালের সেরা আবিস্কারের একটা বলে ঘোষনা দিয়েছিলো।verichip.jpg কিন্তু কোন জায়গাতেই যে ব্যাপারটা আসেনি তা হলো মানব শরীরে চিপ বসানোর উপর ১৯৯০ সালের মাঝামাঝি সময়ে বেশ কিছূ পরীক্ষা চালানো হয় এবং সেই সব পরীক্ষায় দেখা যায় ল্যাবের কিছু ইদুরের শরীরে এই চিপ বসানোর ফলে তাদের মধ্যে টিউমার দেখা দিয়েছে। এ প্রসংগে এই পরীক্ষার সাথে যুক্ত একজন টক্সিকোলোজিষ্ট প্যাথোলজিষ্ট কেইথ জনসন জানান যে, এই চিপগুলোই ছিলো টিউমারগুলোর কারন। নামকরা ক্যান্সার স্পেশালিষ্টরা এই পরীক্ষার তথ্যকে সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন এবং জানান যে যদিও বিভিন্ন প্রাণীর উপর পরীক্ষার ফলাফল সব সময় মানুষের জন্য সত্য হয় না কিন্তু তারপরও তারা এই জিনিষটা নিয়ে সন্দেহের মধ্যে আছে। তবে এই চিপের প্রস্তুতকারক ভেরিচিপ কর্পোরেশন এবং এর আবিস্কারক এপ্লাইড ডিজিটাল সল্যুশন জানায় যে, এই জিনিষটা সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ। এই প্রসংগে ভেরিকর্পের চেয়ারম্যান এবং চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার স্কট সিলভারম্যান বলেন, ’আমাদের ইমপ্ল্যান্টেবল প্রোডাক্টগুলো এফডিএ এবং আমেরিকার অন্যান্য রেগুলেটরি অথোরটির কাছ থেকে অনুমতিপ্রাপ্ত’। প্রতিষ্টানটি আরো জানায় যে, তারা ল্যাবোরেটরিতে কোন টেষ্ট সাবজেক্টের শরীরে চিপ বসানোর ফলে টিউমার হবার কথা এখোনো শুনেনি। এর সাথে তারা আরো যোগ করে গত কয়েকবছর ধরে একটা বেশ বড় সংখ্যক প্রাণীর শরীরে চিপ বসানোর কাজ করেছে তারা এবং এখনো কোন ধরনের অভিযোগের মূখে পড়েনি। তবে এফডিএ অবশ্য তাদেরকেই সমর্থন করছে। এ বিষয়ে এফডিএ যে কৈফিয়ত দিচ্ছে তা হলো এটা ডিপার্টমেন্ট অফ হেলথ এন্ড হিউম্যান সার্ভিস থেকে অনূমতি প্রাপ্ত। তবে সেখানটাতেও প্রশ্ন থেকে যায়। কারন তাদের অনুমতি দেবার ক্ষেত্রে তৈরী কমিটির সভাপতি ছিলেন ডিপার্টমেন্ট অফ হেলথ এন্ড হিউম্যান সার্ভিসের সেক্রেটারি টমি থম্পসন। কিন্তু তাদের অনুমতি দেবার দুই সপ্তাহ পরেই তিনি কেবিনেটে তার পোষ্ট থেকে পদত্যাগ করেন এবং পাচ মাসের মধ্যে তিনি যোগ দেন ভেরিচিপ কর্পে, বোর্ড মেম্বার হিসেবে। তবে থম্পসন জানান যে, তিনি হেলথ এন্ড হিউম্যান সার্ভিস থেকে পদত্যাগ করার আগ পর্যন্ত কিছুই জানতেন না ভেরিচিপ সম্পর্কে। রিসার্চ রিজাল্টগুলো থেকে যা জানা যায় তা হলো আমেরিকার বাইরে বেশ কিছু জায়গায় প্রাণীর শরীরে চিপ বসানোর প্রভাব নিয়ে পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯৮ সালে রিজফিল্ডে যে টেস্ট হয় সেখানে শতকরা ১০ ভাগের বেশী ইদুর, ১৯৯৭ সালে জার্মানির টেষ্টে শতকরা ১ ভাগ ইদুর এবং ২০০৬ সালে ফ্রান্সে শতকরা ৪.১ ভাগ ইদুর আক্রান্ত হয়েছিলো টিউমারে। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের মতে এই পরীক্ষাগুলোকে এই চিপ স্থাপনের উপর রেড এলার্ট বলা যায়। নিউইয়র্কের স্টোলান ক্যান্সার ইন্সিটিটিউটের ক্যান্সার বায়োলজি জেনেটিক্সের প্রধান ড: রবার্ট বেনেজরা জানান যে, এই রিপোর্টগুলো দেখার পর তিনি কখনোই তার শরীরে এই রকম কোন চিপস বসাতে রাজি নন। তার মতে এই চিপগুলো আগে ইদুরের চাইতে বড় কোন প্রাণীর উপর পরীক্ষা করে দেখা উচিত। উল্লেখ্য যে ভেরিচিপ কর্প রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন বা আরএফআইডি নামের যে সব চিপ তৈরী করেছে সেইগুলো আকার দুটো ধানের চালের সমান। এটা সাধারনত কোন মানুষের উপরের বাহুতে একটা সিরিঞ্জের সাহায্যে প্রবেশ করানো হয় । এটাকে যখন কোন ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্ক্যানারের সামনে আনা হয় তখন তা একটা ইউনিক কোড জেনারেট করে । এই কোড দিয়ে হসপিটালের কোন স্টাফ ইন্টারনেট থেকে সেই পেশেন্টের মেডিক্যাল রেকর্ড ডাউনলোড করে নিতে পারে। ইতিমধ্যে ভেরিচিপ কর্প ২০০০ পেসেন্টের মধ্যে এই চিপ বসানোর কাজ সম্পন্ন করেছে এবং তাদের টার্গেট হলো ৪৫ মিলিয়ন আমেরিকাবাসীকে এই চিপের আওতায় আনা। ভেরিচিপ কর্প এই চিপ রিড করতে পারে এই রকম ডিভাইস দিয়ে হসপিটালগুলোর একটা নেটওয়ার্ক তৈরী করার কাজে মিলিয়ন ডলারের মত খরচ করেছে। তারা যখন এফডিএ-র কাছে গিয়েছিলো অনুমতির জন্য তখন তারা বেশ কিছু সাইডইফেক্টের ব্যাপারে ওয়ানিং দিলেও কিছুই বলেনি টিউমার সম্পর্কে। কাজেই বলা যায় যে, ২০০৫ সালে অন্যতম যুগান্তকারী আবিস্কার মানুষের জন্য আর্শিবাদ না অভিশাপ হবে সেটা নিয়ে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। আরেকটা কথা, সাবেক ডিপার্টমেন্ট অফ হেলথ এন্ড হিউম্যান সার্ভিস-এর সেক্রেটারি এবং বর্তমানে ভেরিচিপের বোর্ড মেম্বার থম্পসন বেশ অনেকদিন আগে এক সাক্ষাতকারে তার নিজের শরীরে চিপ বসানোর কথা বললেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি এখনো সেই কাজটা করেননি।

Sep 08

রিচ স্ক্রেনটা নামটা শুনেছেন। না শোনার কথা। এই ভদ্রলোক বেশ কয়েক বছর ধরে কাজ করে আসছেন একটা নিউজ বিজনেস টপিকস-এ যেটা একটা ওয়েব ডাইরেক্টরি তৈরী করার কাজ করে আসছে। এখন টাইম ওয়ার্নার কোম্পানি কিনে নিয়েছে এই ডাইরেক্টরি। এছাড়া তিনিজের প্রথম এপল-২ কম্পিউটারের সামনে রিচ স্ক্রেনটা, এই কস্পিউটারেই লেখা হয়েছিলো প্রথম কম্পিউটার ভাইরাস ’এলক কোন’

নি তৈরী করেছেন অসংখ্য কম্পিউটার প্রোগ্রাম। গত পহেলা সেপ্টেম্বর ছিলো এই লোকের জন্মদিন। কিন্তু কথা হলো তাতে এমন কি হয়েছে? যা হয়েছে তা হলো একইসাথে বিশ্বে প্রথম কোন কম্পিউটার ভাইরাস লেখকের ২৫ বছর পূর্তি হলো। ২৫ বছর আগে ‘এলক কোন’ নামে একটা পারসোনাল কম্পিউটার ভাইরাসের সংক্রমন ঘটে যা তৈরী হয়েছিলো এই মেধাবির একটা প্রাকটিক্যাল জোকের ফলে। এটা ছিলো একটা সেল্ফ রেপ্লিকেটিং ভাইরাস মানে নিজে নিজে কপি হয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়ায় বিভিন্ন কম্পিউটারে। তবে সেসময় ইন্টারনেট এতো বেশী সহজলভ্য না থাকার কারনে ভাইরাস টা খুব বেশী কম্পিউটারকে আঘাত করতে পারেনি। তবে যা করতে পেরেছিলো সেটা সাড়া ফেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ২৫ বছর আগে রিচ ছিলো একজন কিশোর। তাদের বন্ধুদের একটা পাইরেসি সার্কেল ছিলো যারা তাদের নিজেদের মধ্যে গেমস বা সফটওয়্যার আদান-প্রদান করতো। কিন্তু তার বন্ধুরা তার কাছ থেকে ফপি নিতে চাইতো না কারন সে প্রায়ই ডিস্কে করে নানা রকম অনস্ক্রিন ম্যাসেজ পাঠাতো। তাই সে তার বন্ধুদের সাথে মজা করার জন্য একটা মজার কাজ করে। ১৯৮২ সালে তিনি তার এপল-২ কস্পিউটােিরর জন্য একটা প্রোগাম লিখে যার সাহায্যে সে তার বন্ধুদের কম্পিউটারে হ্যাক করে অটোমেটিকলি সেই সব ম্যাসেজ পাঠাতে পারতো। এর ফলে যা ঘটে তা হলো সে একটা বুট সেক্টর ভাইরাস তৈরী করে। এই ভাইরাসটি কাজ করতো কেবল এপল কস্পিউটারে। ভাইরাসটি কম্পিউটারে প্রবেশ করানো মাত্র এর মেমোরিতে নিজের একটা কপি তৈরী করে রাখতো এবং যখনই ওই কস্পিউটারে কোন ফপি ডিস্ক প্রবেশ করানো হতো এবং সব ফাইল দেখার জন্য যখন ক্যাটালগ কমান্ড দেওয়া হতো তখনই এটা আপনা আপনি কপি হয়ে যেত সেই ডিস্কে। এভাবেই ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। তবে এটা কস্পিইটারের তেমন কোন তি করতো না। কেবল ৫০ বারের বার বুট করলে একটা ম্যাসেজ আসতো “ওঃ রিষষ মবঃ ড়হ ধষষ ুড়ঁৎ ফরংশং; রঃ রিষষ রহভরষঃৎধঃব ুড়ঁৎ পযরঢ়ং.”।১৯৮২ সালে রিচ তার বন্ধুদের কম্পিউটার এবং একটা কম্পিউটার কাবে ছড়িয়ে দেয় এই ভাইরাস। তারপর যা ঘটে তা হলো তার ভাইরাস কি কি ঘটিয়েছে তার খবর প্রথমে কন্ধুদের কাছে এবং পরে অন্যান্য দের কাছ থেকে পেতে থাকেন তিনি। এমনকি এই ঘটনার এক যুগ পরেও এক নাবিক তাকে তার কম্পিউটার এ ভাইরাসে আক্রান্ত হবার গল্প শোনায়। তবে তিনি বুঝে উঠতে পারেননি কেন ওই নাবিক এপল-২ কম্পিউটার ব্যাবহার করতো। সাম্প্রতিক এক সাাতকারে রিচ জানান যে ব্যাপারটা পুরোটাই করা হয়েছিলো মজা করার জন্য এবং তিনি কখনো বুঝতে পারেননি এরকম কিছু ঘটবে। তবে সেই ঘটনা ঘটার পর এখন আইটি দুনিয়াতে অনেক ভাইরাস আছে যাদের শক্তি বলা যায় অপরিসিম। এখন ভাইরাস আর ডিস্ক নয় বরং আক্রমন করে ই-মেইলের মাধ্যমে এবং মোলিসা, লাভ বাগের মতন ভাইরাসগুলোর আক্রমনে বরোটা বেজেছে মিলিয়নের মত কম্পিউটারের। তবে যত দুর্বল হোকনা কেন এলক কোন বিশ্বের প্রথম ভাইরাস হিসেবে এবং রিচ স্ক্রেনটা প্রথম ভাইরাসটির লেখক হিসেবে বিশ্বে ইতিহাসে আজীবন টিকে থাকবেন।

Jul 03

‘টাইপরাইটার দিয়ে কি ছবি আঁকা সম্ভব’ এই প্রশ্ন যদি করেন তবে অনেকেরই চোখ কপালে উঠবে। কিংবা যদি বলেন কম্পিউটারে শুধু কিবোর্ড দিয়ে কি ছবি আঁকা সম্ভব তাহলেও কিছুটা অস্বীকৃতি দিয়ে দিবেন অনেকেই। কিন্তু অবিশ্বাস্য সত্যি যে টাইপরাইটার বা শুধু কম্পিউটার কিবোর্ড (কোন গ্রাফিক্যাল ইউটিলিটি ছাড়া) দিয়ে ছবি আঁকা সম্ভব। এইসব অক্ষর দিয়ে বা চিহ্ন দিয়ে ছবি আঁকার ইতিহাসটি অনেক পুরোনো এবং বিস্ময়কর। টাইপরাইটার দিয়ে আঁকা কিছু ছবি আছে যেগুলো দেখলে সত্যিই অবিশ্বাস্য লাগে। টাইপরাইটার দিয়ে অঙ্কিত ছেিবকে বলা হয় টাইপগ্রাফী আর এই টাইপরাইটার নামক যন্ত্রটি দিনে দিনে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে আর সেই জায়গাটি দখল করে নিচ্ছে কম্পিউটার। কম্পিউটারে নির্দিষ্ট কিছু চিহ্ন দিয়ে যে ছবি আঁকা হয় তাকে বলে আসকি ছবি।

কম্পিউটার কিবোর্ড দিয়েও তৈরি করা যায় নানারকম ছবি কিছু নির্দিষ্ট অক্ষর বা সংকেতের মাধ্যমে। কম্পিউটিংয়ের সুবিধায় ২৫৬টি বিশেষ চিহ্ন দিয়ে একটি স্টান্ডার্ড নির্ধারন করে দেয়া হয়েছে এই স্টান্ডার্ডটির নাম আসকি (ASCII-American Standard Code for Information Interchange)। আসকি ক্যারেক্টার দুইটি ভাগে বিভক্ত, প্রাথমিক এবং বর্ধিত। সাধারনত প্রাথমিক চিহ্নগুলোকে আসকি ছবি আঁকার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে বিশেষ কিছু বস্তু বা মুখের অবয়বের জন্য সবধরনের চিহ্নই ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

মিসরীয় হাইরোগ্লিফিকপ্রাচীনকালে অক্ষরদিয়ে ছবি আাঁকার প্রচলন ছিল খুব ভালভাবেই। আর এই কাজটি করা হত হাতে লিখেই। অনেক পুরানা পুঁথিতে এর নিদর্শন পাওয়া গেছে। উদাহরন হিসেবে মিসরীয় হাইরোগ্লিফিক। মিসরীয় হাইরোগ্লিফিকে অক্ষর এর বদলে ব্যবহৃত হত ছবি। যা বর্তমান থ্রিডি আসকির পথিকৃত বলা যায়। আর থ্রিডি আসকি হচ্ছে আসকি ছবির সর্বশেষ সংস্করন যা এখনও অতটা জনপ্রিয়তা পায়নি। তবে অক্ষরকে ছবি হিসেবে উপস্থাপনের কৌশলটি অনেক পুরোনো। আগের দিনে টাইপরাইটারে যখন কবিতা টাইপ করা হত তখন টাইপরাইটারে কবিতার অক্ষরগুলোকে নানারকম চিত্রতে রূপান্তরিত করার একটা কৌশল ছিল। আর সেই ধারায় টাইপোগ্রাফী নামক এক পদ্ধতি আবিস্কৃত হয়েছিল। তবে টাইপরাইটার দিয়ে এই বিশেষ চিত্রকর্ম পদ্ধতির স্বীকৃতি দেয়া হয় ১৮৯০ সালে, যদিও ১৮৬৭ সাল থেকেই টাইপোগ্রাফীর প্রচলন ছিল।