বিশ্বের অন্যতম বড় একটি হার্ডডিস্ক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমন ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে হার্ডডিস্কটির ক্রেতারা সেখানে সংরক্ষিত ফাইল অনলাইনে আদান-প্রদান করতে পারবে না। হার্ডডিস্ক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল জানিয়েছে, সফটওয়্যার চুরি (পাইরেসি) ঠেকাতেই তারা গান ও শব্দের (অডিও) ফাইল আদান-প্রদান করার ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে। ফাইলগুলো কপিরাইট আইনে সংরক্ষিত না থাকলেও বা তা ব্যবহারকারীর নিজের তৈরি হলেও হার্ডডিস্কে রাখা এ ধরণের কোনো ফাইলই আদান-প্রদান করা যাবে না। তবে সমালোচকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে সফটওয়্যার চুরির বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে গ্রাহকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। ডিজিটাল দুনিয়ায় ই-বুক, সংগীত, টিভি অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র পর্যন্ত সব ধরনের ফাইল বিশ্বজুড়ে আদান-প্রদান করা হচ্ছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। এর মাধ্যমে কপিরাইট আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এসব উপাদানের নির্মাতারা। কপিরাইট আইন বাস্তবায়নের জন্য এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় পন্থা হচ্ছে ডিজিটাল অধিকার ব্যবস্থাপনা (ডিআরএম)। এ ব্যবস্থাপনায় সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের সাহায্যে গান, অডিও বা ভিডিও ফাইলগুলোর নিয়ন্ত্রিণ নিশ্চিত করা হবে। ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল ব্যবহারকারীদের ৩০টির বেশি ভিন্ন ভিন্ন ফাইল আদান-প্রদানে বাধা দেবে। অবশ্য এর জন্য ওই কোম্পানির সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে। ডিআরএম যুক্ত উপাদানের সবচেয়ে বড় সমস্যা যে এগুলো ভিন্ন কোনো মাধ্যম সমর্থন করে না। যেমন বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন মিউজিক স্টোর আইটিউনস থেকে কেনা ও সংগ্রহ করা সংগীত কেবল আইপড বা অ্যাপলের নিজস্ব যান্ত্রিক ব্যবস্থায় চলে। ডিআরএমবিরোধী জোট ফ্রি সফটওয়্যার ফাউন্ডেশনের পিটার ব্রাউন বলেন, ‘ওয়েস্টার্ন ডিজিটালের মতো প্রতিষ্ঠান আমাদের কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। সমাজের জন্য ডিআরএম ক্ষতিকর। কারণ এটি পর্যবেক্ষণ করে আমরা কী করছি এবং আমরা আমাদের ডিজিটাল জীবন কীভাবে কাটাচ্ছি। এটা আমাদের নাগরিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। এভাবে কপি করা কখনোই বন্ধ করা যাবে না।’
তথ্যসূত্র:দৈনিক প্রথম আলো
মাইক্রোসফটের অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ভিসতা থেকে একটি ‘অ্যান্টি পাইরেসি টুল’ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। উইন্ডোজ ভিসতার গ্রাহকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘কিল সুইচ’ নামে পরিচিত এ প্রোগ্রামটি ভিসতার অবৈধ কপি ব্যবহারকারীদের ভিসতার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করতে বাধা দিত। কিন্তু উইন্ডোজ ভিসতার অনেক বৈধ ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন, এটি তাদের বৈধ কপিও অচল করে দিচ্ছে। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে মাইক্রোসফট প্রোগ্রামটি সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। মাইক্রোসফট জানায়, ‘অ্যান্টি পাইরেসি টুল’ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি কার্যকর হবে উইন্ডোজ ভিসতার সার্ভিস প্যাক ১ ছাড়ার পর।
যাঁরা উইন্ডোজ ভিসতাসহ নতুন কম্পিউটার কেনেন, তাঁদের অনলাইনে মাইক্রোসফটের কাছ থেকে তাদের কপিটি যে আসল, তা নিশ্চিত করতে হয়। উইন্ডোজ জেনুইন অ্যাডভানটেজ নামের একটি অনলাইন প্রোগ্রাম কপিটি আসল কি না, তা খতিয়ে দেখে। যদি মনে হয়, কপিটি নকল, তবে এ প্রোগ্রামটি ভিসতাকে অকার্যকর করে দিতে পারে। কিন্তু ভিসতার অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন, তাঁদের বৈধভাবে কেনা ভিসতার কপিটিও নকল বলে মনে করছে টুলটি। মাইক্রোসফটের করপোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক সিভার্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এখন থেকে ভিসতার যেসব অবৈধ কপি শনাক্ত করা হবে, তাদের জানিয়ে দেওয়া হবে যে তাদের ভিসতা আসল নয়। তাদের বৈধভাবে ভিসতা ব্যবহারের কথা স্নরণ করিয়ে দেওয়া হবে। তাদের ভিসতার কোনো বৈশিষ্ট্য থেকে বঞ্চিত করা হবে না।’ মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ভিসতার পাইরেসি রোধে ব্যবস্থা নেওয়ায় সুফল পাওয়া গেছে। উইন্ডোজ এক্সপির চেয়ে উইন্ডোজ ভিসতার নকল কম হয়েছে। সিভার্ট বলেন, টুলটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও মাইক্রোসফটের নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। উইন্ডোজ ভিসতার ক্রেতাদের এখনো তাদের কপিটির বৈধতার অনুমোদন নিতে হবে। বিভিন্ন সময়ে কপিটির বৈধতার প্রমাণ দিতে হবে। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, তারা গত বছর মাইক্রোসফটের পণ্য নকলকারী প্রায় এক হাজার ডিলারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। অনলাইনের প্রায় ৫০ হাজার নকল সফটওয়্যার নিলামকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো
অনেক জল্পনা-কল্পনার পরে মাইক্রোফটের বিরুদ্ধে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মামলার রায় ঘোষনা করলো ইইউ’র দ্বীতিয় সর্বোচ্চ আদালত। গত সোমবার তারা আগের রায়ের বিরুদ্ধে মাইক্রোসফটের আপিল খারিজ করে দিয়েছে । এর মাধ্যমে ইইউ বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যে শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছিলো তা এক ধাপ এগিয়ে গেলো।
মাইক্রোসফটের সাথে গত নয় বছরধরে এই এন্টি-ট্রাষ্টের মামলা লড়ে আসছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে ইইউ’র অভিযোগ হলো ডেস্কটপ কম্পিউটারে মাইক্রোসফট তাদের জনপ্রিয়তা ব্যাবহার করে ১৯৯০ সালে সার্ভার সফটওয়্যার এবং মিউজিক প্লেয়ারের বাজার প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করে। মামলার রায়ে ইইউ আদালত আরো জানায় যে মাইক্রোসফট এখনো এই ধরনের কাজ করে আসছে । এই ঘটনার সুত্রপাত হয় আসলে ১৯৯০ সালে। মাইক্রোসফটের দুই প্রতিদ্বন্দি সান মাইক্রোসিস্টেমস এবং রিয়ালনেটওয়ার্কস অভিযোগ করে যে, মাইক্রোসফট ডেক্সটপ কম্পিউটারে তাদের জনপ্রিয়তাকে অবৈধভাবে ব্যাবহার করছে তাদের প্রতিদ্বন্দিদের বিরুদ্ধে। তারা তাদের অপারেটিং সিস্টেম ব্যাবহারকারীদেরকে তাদের নিজস্ব সার্ভার এবং মিউজিক প্লেয়ার ব্যাবহার করতে বাধ্য করছে। এভাবে তারা অন্যদের প্রতিযোগীতা করার সুস্থ প্রতিযোগীতা করার ক্ষেত্রে । ২০০৪ সালের ১২ই মার্চ প্রথমবারের মতন এই মামলার রায় দেওয়া হয়। সেবার মাইক্রোসফটকে ৪৯৭ মিলিয়ন ইউরো বা ৬১৩ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়। তাদেরকে আরো নির্দেশ দেয়া হয় যেনো তারা তাদের অপারের্টিং সিস্টেমের কোড অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে শেয়ার করে এবং তাদের অপারেটিং সিস্টেমের একটা ভার্সন তৈরী করে যেটা হবে উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার ছাড়া। তারপর তাদেরকে গত বছর আরো ২৮০.৫ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করা হয় এসব আদেশ ঠিকমতো বাস্তবায়ন না করার কারনে। মাইক্রোসফট রায়ের বিরুদ্ধে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সর্বোচ্চ কোর্টে আপিল করলে গত ১৫ মাস ধরে লুক্সেমবার্গ ভিত্তিক আদালতের ১৩ জন বিচারক-এর শুনানীতে রায় বিবেচনা রা হয় এবং গতকাল ঘোষনা করে মামলার রায়। তাদের এই রায় বলা যায় এক দিক দিয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে বিশ্বের প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে মজবুত অবস্থানে নিয়ে গেলো। কারন ২০০১ সালে ইউএস জাষ্টিস ডিপার্টমেন্ট এই মামলার বিরোধিতা করা সত্বেও ইইউ তাদের মতে অটল ছিলো। এদিকে গত দুই মাসে ইইউ ইন্টেল কর্পোরেশন এবং র্যাম্বাস –এর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে । সামনে এপল এর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার শুনানী অনুষ্ঠিত হবে। এপলের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো তারা তদের গ্রাহকদের পছন্দকে জোর করে কেবল আইটিউনসের স্টোরগুলোতে রাখতে বাধ্য করছে। এদিকে গুগল , ডাবলকিক ইনক কে কিনে নেবার জন্য যে চেষ্টা করছে সেটার জন্য তাদের অবশ্যই কিছুদিনের মধ্যে ইইউ-র অনুমতি নেওয়া লাগবে। এই প্রসংগে মাইক্রোসফটের উকিল ব্রাড স্মিথ জানান, এই সিদ্ধান্ত ম্পষ্টভাবে কমিশনকে অতিরিক্ত ক্ষমতা এবং সেচ্ছাচারিতা দিচ্ছে। আমরা তাদের কাছে এটাই বলার চেষ্টা করেছি যে, এই ইন্ডাষ্ট্রির অনেক প্রতিষ্ঠানের মাইক্রোসফটে বড় অংকের শেয়ার আছে এবং এই আদেশের প্রতিক্রিয়া তাদের উপরও পড়বে। ওদিকে ওয়াশিংটনে এসিস্টেন্ট এটর্নি জেনারেল থমাস ও বারনেট বলেন, এই রায় প্রতিযোগীতাকে নিরুংসাহিত করবে এবং এতে ক্ষতির সম্মুখিন হবেন মূলত ক্রেতারা। তিনি আরো বলেন, আমেরিকাতে এন্টি-ট্রাষ্ট আইনের উদ্দেশ্য হলো প্রতিযোগী নয় বরং প্রতিযোগীতাকে রক্ষা করার মাধ্যমে ক্রেতাদের স্বার্থ বজায় রাখা। এই রায়ের পর মাইক্রোসফটকে ২ মাস সময় দেয়া হয়েছে চিন্তা করার জন্য। তাদের হয় মেনে নিতে হবে আদালতের রায় নয়তো ইউরোপের সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবে তারা। তবে এই রায়ে মাইক্রোসফটের কেবল একটা ছোট বিজয় অর্জিত হয়েছে আর তা হলো, আদালত মাইক্রোসফট যেনো কোন ধরনের অভিযোগ করতে না পারে এবং তাদের যেন এই জরিমানা দানে বাধ্য করা হয় সেজন্য একটা ট্রাষ্টি গঠনের প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে।
বাজারে ভিস্তা নিয়ে আসার আগে মাইক্রোসফটের এটা ধারনা ছিলো য়ে তাদের হয়তো কিছু প্রতিযোগীতার মূখোমুখি হতে হবে। কিন্তু তাদের এটা ধারনা ছিলোনা যে, তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দি তারা নিজেরাই। এই ছয় বছরের পুরোনো অপারেটিং সিস্টেমটা এখনো সবাইকে অবাক করে বাজারে তার মজবুত অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। যদিও ভিস্তার ফুল ভার্সন রিলিজ হয়েছে আরো ছয় মাস আগে কিন্তু তারপরও ব্যাবহারীরা তাদের কম্পিউটারে ভিস্তা ব্যাবহার করতে চাচ্ছে না এমনকি অনেকে তাদের কম্পিউটার থেকে ভিস্তা অপারেটিং সিস্টেম কে বাদ দিয়ে এক্সপি ইনস্টল করছে। গত এপ্রিলে ডেল তাদের নতুন যে সিস্টেমগুলো বাজারে এনেছে সেগুলোতে এক্সপি ইনস্টল করার অপশন দিচ্ছে । এক হিসাবে দেখা গেছে যে, মাইক্রোসফটের হিসেবে যে এক্সপির বিক্রি হবার কথা ২০০৮ সালে ১৫% সেটাকে তারা বৃদ্ধি করেছে ২২% এ। গত আগষ্টে মাইক্রোসফট ঘোষনা দেয় একটা মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এক্সপি সার্ভিস প্যাক ২সি রিলিজ করার। তবে এই নতুন সার্ভিস প্যাকে যুক্ত হচ্ছে না নতুন তেমন কিছু এবং তারা আশা করছে আগামী ২০০৯ সাল পযৃন্ত তারা বিক্রি করতে পারবে তাদের এই এক্সপি। এছাড়া যারা ডেল, এইচ পি বা লিনোভো থেকে পিসি কিনছেন তাদের একটা এক্সপি প্রো রিকভারী ডিস্ক দিয়ে দেওয়া হচ্ছে যেনো তারা প্রয়োজনবোধে ভিস্তার জায়গায় এক্সপি ইনস্টল করে নিতে পারে । এক্ষেত্রে বলা যায় ৪০ বছর বয়স্ক সানফ্রান্সিকোর সফটওয়্যার ডেভোলপার মার্ক সানফোর্ডের কথা, তার কম্পিউটারে ভিস্তা ইনস্টল করে নেবার সব রকম রিকোয়্যারমেন্ট থাকা সত্বেও তার ভিস্তাতে তার কস্পিউটারকে আপগ্রেড করে নেবার কোন রকম প্ল্যান নেই। তার মতে এক্সপি তার কাজের জন্য যথেষ্ট এবং এখনো এমন কিছু ঘটেনি যা তাকে এক্সপির কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে পারে এবং ভিস্তাতে আপগ্রেড করাতে পারে। আরেক হিসেবে দেখা যায় ২০০৭ সালের জানুয়ারী থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত এক্সপি বিক্রি হয়েছে ৪২.৩%। যখন এক্সপি প্রথম রিলিজ হয়েছিলো তখন একই সময়ে উইন্ডোজ বিক্রি হয়েছিলো ২৩.১%। তবে এটা কেবলমাত্র রিটেইল বিক্রির হিসেব এবং এটা দিয়েই সবকিছু বিচার করা যায় না। তবে গত কয়েকবছরে পিসির দাম যেরকমভাবে কমছে এবং ভিস্তার হার্ডওয়্যার রিকোয়ারমেন্ট যেহেতু অনেক বেশী কাজেই মানুষ এখন তাদের পিসি আপগ্রেড করার চাইতে নতুন পিসি কিনে নেবার ব্যাপারে বেশী আগ্রহী। তবে আরেকটা ব্যাপার সবাইকে অবাক করছে তা হলো এপলের অপারেটিং সিস্টেমের বিক্রি বেড়ে গেছে । যদিও মার্কেট শেয়ারের দিক দিয়ে হিসেব করে দেখলে এটা মাইক্রোসফটের বিক্রির তুলনায় তেমন কিছূ নয় কিন্তু তারপরও অনেক বেড়ে গেছে তাদের বিক্রি। এর কারন হলো আগে ম্যাকবুকে কেবল এপলের সফটওয়্যার ব্যাবহার করতে হতো কিন্তু এখন তা করার কোন প্রয়োজন পড়ে না, এখন ম্যাকের যে কোন কম্পিউটারে উইন্ডোজ এক্সপি বা ভিস্তা ব্যাবহার করা যায়। তবে সেক্ষেত্রে যেটা দেখা গেছে তা হলো ভিস্তা এই নিশ্চয়তা দেয় না যে এখানে সব সফটওয়্যার চালানো যাবে, কিন্তু এক্সপি সেই নিশ্চয়তা দিচ্ছে । সেজন্য যারাই এখন ম্যাকবুক কিনছেন তারাই এর সাথে সাথে এক্সপির একটা ভার্সন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া এর আরেকটা কারন হলো গেমাররা ভিস্তাকে তেমন একটা পছন্দ করতে পারছে না। কারন তারা ভিস্তার ডাইরেক্ট এক্স ১০ ঠিকমতো ব্যাবহার করতে পারছে না একইসাথে এক্সপির মতন হাই-স্পিডও পাচ্ছে না তারা ভিস্তা থেকে। এছাড়া গেমাররা এক্সপিতে যেখানে ব্যাবহার করতো ডাইরেক্ট সাউন্ড থ্রি ডি সেখানে তারা ভিস্তাতে এ ফিচারটা পাচ্ছে না। এসব কারনে গেমাররা এক্সপি নিয়েই সন্তুষ্ট। তবে মাইক্রোসফট তাদের নতুন যেই ভিস্তা সার্ভিস প্যাক বাজারে আনছে সেটা হয়তো এক্সপি ব্যাবহারকারীদেরকে সন্তুষ্ট করতে পারবে বলে অন্তত আশা করা যায়।
একটা সময় তারা ছিলো বাজারে প্রধান প্রতিদ্বন্দি। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে ততই মাইক্রোসফটের সাথে সান মাইক্রোসিস্টেমের সম্পর্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবার সান মাইক্রোসিস্টেমস তৈরী করছে নতুন একটা সার্ভার যেখানে সরাসরি ইনস্টল করা থাকবে উইন্ডোজ। এর ফলে আর ক্রেতাদেরকে আর জোর করে সানের সফটওয়্যার কিনতে হবে না। সান এবং মাইক্রোসফটের মধ্যে এই চুক্তির কথা ঘোষনা করা হয় গত বুধবার। একটা সময় ছিলো যখন এই দুটি কোম্পানির মধ্যে রেশারেশি ছিলো চরমে। ২০০৪ সালেই সান মাইক্রোসফটের কাছ থেকে পেটেন্ট সংক্রান্ত মামলায় ১.৯৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা আদায় করে। তারা একটা সময় একে অপরের চাইতে কিভাবে ভালো প্রোডাক্ত তৈরী করা যায় সেটা নিয়ে বিশাল এক প্রতিযোগীতাতে লিপ্ত ছিলো। কিন্তু তাদের বর্তমান অবস্থা অবাক করছে কম্পিউটার বিশেষজ্ঞদের। সান তাদের নতুন সার্ভার এক্স৬৪ তে মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ সার্ভার ২০০৩ ব্যাবহার করছে। এটা ব্যাবহার করা হবে কর্পোরেট কম্পিউটারে যেগুলো ব্যাবহার করছে ৬৪ বিট ইন্টেল বা এএমডি মাইক্রোপ্রসেসর। প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে যে আগামি ৯০ দিনের মধ্যে বাজারে পাওয়া যাবে এই জিনিষটা। যদিও সানের সার্ভারে আগেও উইন্ডোজ ব্যাবহার করা যেত কিন্তু সান তাদের ফ্যাক্টরিতে তা ইনস্টল করে দিতো না। ব্যাবহারকারীরা নিজেরা চাইলে ইনস্টল করে নিতে পারতো বা মাইক্রোসফটের কোন ধরনের লাইসেন্সিং-এর কাগজ দেখাতে পারলে তখন সান এটা ইনস্টল করে দিতো। সান হলো বর্তমানে সার্ভারের বাজারে তিন নম্বর র্যাকিং-এ- তাদের সামনে আছে আইবিএম এবং হিউলেট প্যাকার্ড। সান এবং মাইক্রোসফটের চুক্তির অন্যতম দিক হলো তাদের এই পন্যে ব্যাবহারকরা হবে ভার্চুয়ালাইজেশন টেকনোলজি যার ফলে এতে কয়েকটি অপারেটিং সিস্টেমে কাজ করা যাবে এবং একইসাথে এটা হার্ডওয়্যার এবং এনার্জি খরচ কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। বর্তমানে সান মাইক্রোসিস্টেমসের বিভিন্ন বড় বড় প্রতিষ্টানের সাথে সম্পর্ক উন্নত করাটা তাদের আগের স্বভাবের সাথে মিলে না। তাই তাদের এই কাজকে অনেকে একটা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বলে মনে করছেন। তবে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে এই কাজটা তাদের করতে হচ্ছে সানের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সাফল্য
নিশ্চিত করার জন্য।
গত ৪ জুলাই বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) আউটসোর্সিং অপরচুনিটি ইন ইউকে ফর সফটওয়্যার অ্যান্ড আইটি সার্ভিসেস শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে মূল বক্তব্য দেন ইউকে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ডিপার্টমেন্ট এবং ম্যাঞ্চেস্টার চেম্বার অফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের ট্রেড অ্যাডভাইজর মিস্টার টনি ব্রাউন।
সেমিনারের শুরুতেই তিনি বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত পরিবেশনের মাধ্যমে পরিষ্কার করলেন বাংলাদেশ এমন একটি সম্ভাবনাময় দেশ যারা ইওরোপিয়ান দেশের সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চারে কাজ করলে দেশের আইটি খাতকে আরো সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এক্সপোর্ট প্রমোশন বুরোর (ইপিবি) ডিরেক্টর জেনারেল মিস্টার ফরিদুল ইসলাম। এছাড়াও বাংলাদেশে বৃটিশ হাই কমিশনের ইউকে ট্রেড ও ইনভেস্টমেন্টের ডিরেক্টর মিস্টার কেভিন রিংহ্যাম বক্তব্য দেন বিশেষ অতিথি হিসেবে। মিস্টার কেভিন বলেন, বাংলাদেশের আইটি খাতকে বৃটেনের কম্পানিগুলোর সঙ্গে সমন্বিত করাই তার মিশন এবং এখানে এ অল্প দিনেই তিনি বুঝেছেন সম্ভাবনার কথাটা মিথ্যা নয়। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বেসিসের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রফিকুল ইসলাম, ডিরেক্টর নুরুল কবির ও বেসিসের অন্য সদস্যরা।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিশ্বে এখনো প্রায় ১৭ হাজার কোটি ডলারের আউটসোর্সিং মার্কেট রয়েছে। বেসিস এ লক্ষ্যে গত মাসে বিটম্যাপ নামে একটি প্রজেক্ট চালু করেছে। ইওরোপিয়ান কমিশনের আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ ইনফরমেশন টেকনলজির ম্যানেজমেন্ট (বিটম্যাপ) প্রোগ্রামের লক্ষ্য দেশের আইটি খাতকে আরো দক্ষভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
(সৌজন্যে দৈনিক যায়যায়দিন)
‘টাইপরাইটার দিয়ে কি ছবি আঁকা সম্ভব’ এই প্রশ্ন যদি করেন তবে অনেকেরই চোখ কপালে উঠবে। কিংবা যদি বলেন কম্পিউটারে শুধু কিবোর্ড দিয়ে কি ছবি আঁকা সম্ভব তাহলেও কিছুটা অস্বীকৃতি দিয়ে দিবেন অনেকেই। কিন্তু অবিশ্বাস্য সত্যি যে টাইপরাইটার বা শুধু কম্পিউটার কিবোর্ড (কোন গ্রাফিক্যাল ইউটিলিটি ছাড়া) দিয়ে ছবি আঁকা সম্ভব। এইসব অক্ষর দিয়ে বা চিহ্ন দিয়ে ছবি আঁকার ইতিহাসটি অনেক পুরোনো এবং বিস্ময়কর। টাইপরাইটার দিয়ে আঁকা কিছু ছবি আছে যেগুলো দেখলে সত্যিই অবিশ্বাস্য লাগে। টাইপরাইটার দিয়ে অঙ্কিত ছেিবকে বলা হয় টাইপগ্রাফী আর এই টাইপরাইটার নামক যন্ত্রটি দিনে দিনে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে আর সেই জায়গাটি দখল করে নিচ্ছে কম্পিউটার। কম্পিউটারে নির্দিষ্ট কিছু চিহ্ন দিয়ে যে ছবি আঁকা হয় তাকে বলে আসকি ছবি।
কম্পিউটার কিবোর্ড দিয়েও তৈরি করা যায় নানারকম ছবি কিছু নির্দিষ্ট অক্ষর বা সংকেতের মাধ্যমে। কম্পিউটিংয়ের সুবিধায় ২৫৬টি বিশেষ চিহ্ন দিয়ে একটি স্টান্ডার্ড নির্ধারন করে দেয়া হয়েছে এই স্টান্ডার্ডটির নাম আসকি (ASCII-American Standard Code for Information Interchange)। আসকি ক্যারেক্টার দুইটি ভাগে বিভক্ত, প্রাথমিক এবং বর্ধিত। সাধারনত প্রাথমিক চিহ্নগুলোকে আসকি ছবি আঁকার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে বিশেষ কিছু বস্তু বা মুখের অবয়বের জন্য সবধরনের চিহ্নই ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
প্রাচীনকালে অক্ষরদিয়ে ছবি আাঁকার প্রচলন ছিল খুব ভালভাবেই। আর এই কাজটি করা হত হাতে লিখেই। অনেক পুরানা পুঁথিতে এর নিদর্শন পাওয়া গেছে। উদাহরন হিসেবে মিসরীয় হাইরোগ্লিফিক। মিসরীয় হাইরোগ্লিফিকে অক্ষর এর বদলে ব্যবহৃত হত ছবি। যা বর্তমান থ্রিডি আসকির পথিকৃত বলা যায়। আর থ্রিডি আসকি হচ্ছে আসকি ছবির সর্বশেষ সংস্করন যা এখনও অতটা জনপ্রিয়তা পায়নি। তবে অক্ষরকে ছবি হিসেবে উপস্থাপনের কৌশলটি অনেক পুরোনো। আগের দিনে টাইপরাইটারে যখন কবিতা টাইপ করা হত তখন টাইপরাইটারে কবিতার অক্ষরগুলোকে নানারকম চিত্রতে রূপান্তরিত করার একটা কৌশল ছিল। আর সেই ধারায় টাইপোগ্রাফী নামক এক পদ্ধতি আবিস্কৃত হয়েছিল। তবে টাইপরাইটার দিয়ে এই বিশেষ চিত্রকর্ম পদ্ধতির স্বীকৃতি দেয়া হয় ১৮৯০ সালে, যদিও ১৮৬৭ সাল থেকেই টাইপোগ্রাফীর প্রচলন ছিল।
১৮৯০ সালে টাইপরাইটার প্রস্তুতকারক কোম্পানি এবং সেক্রেটারিয়াল এজেন্সিগুলো মিলে একটি প্রতিযোগিতা শুরু করেছিল যার বিষয়বস্তু ছিল টাইপিং গতি এবং টাইপোগ্রাফী। সেই ধারায় ১৮৯৮ সালে ফ্লোরা স্টাচি নামের এক মহিলা, যিনি ছিলেন একজন সচিব, একটি টাইপোগ্রাফী জমা দিয়ে আলোড়ন তুলেছিলেন। ২০০ বছর পরে সেই ছবিটি দেখে আপনিও বিস্মিত হবেন। ছবিটির বিষয়বস্তু একটি প্রজাপতি যা তিনি এঁকেছিলেন প্রতিযোগিতায় বসে এবং একবারের চেষ্টায়। যা এখন পর্যন্ত পিটম্যানের ফনেটিক জার্নাল এ সংরক্ষিত আছে। পাঠকদের জন্য মূল ছবিটি এখানে সংযুক্ত করা হল। ছাপার কাজের বৈচিত্র আনতে শুরু হয় অক্ষর বিন্যাসের মধ্যে শৈল্পিকতা। উদাহরন হিসেবে অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড একটি সংস্করনের কথা বলা যায়। সেখানে ইদুরের লেজের বর্ণনামূলক অংশের লেখাটুকুকেই তৈরি করা হয়েছিল ইদুরের লেজের আকারে। এরকম আরও অনেক উদাহরন আছে।
১৯০০ সালের শুরুর দিকে একটা প্রযুক্তি আবিস্কৃত হয়েছিল, সেটি হর রেডিও টেলি প্রিন্ট বা টেলিপ্রিন্টার। সেই সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য এটি ছিল একটি চমৎকার মাধ্যম। প্রেরক কোন তথ্য পাঠাতে নির্দিষ্ট কিছু চিহ্ন এর মাধ্যমে প্রেরকযন্ত্র থেকে গ্রাহকযন্ত্রের উদ্দেশ্যে মেসেজ টাইপ করত আর তা প্রিন্ট হত গ্রাহকের টেলিপ্রিন্টারে। কিন্তু প্রেরকেরা তাদের শৈল্পিক মনের প্রস্ফুটন ঘটানো শুরু করেছিল তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে। টাইপকৃত তথ্যের ভিন্নতর বিন্যাসের মাধ্যমে তৈরি করা শুরু হল নানারকম চিত্রের। এই বিড়ালের অবয়বটি তারই নিদর্শন।
কম্পিউটারে সবার প্রথম আকাঁ আকিঁর শুরু হয় সেই পাঞ্চকার্ড এর আমলে। আগের দিনের সেইসব কম্পিউটারের আউটপুটের জন্য ব্যবহার করা হত পেপারটেপ। পেপারটেপ হল অনেক লম্বা কাগজের ফিতা। নানারকম প্রসেসিং এর আউটপুটগুলো সরাসরি পেপারটেপই নেয়া হত কারন তখন পর্যন্ত মনিটর
আবিস্কৃত হয় নি। কিন্তু সেইসময়ের অপারেটর/প্রোগ্রামাররা গাণিতিক সমস্যার পাশাপাশি পেপারটেপে ছবি আঁকার প্রচলন ঘটিয়েছিলেন। পেপারটেপে পাশাপাশি একগুচ্ছ অক্ষর বিন্যাস করে নানারকম চিত্র তৈরি করা শুরু করেছিল। কিন্তু পেপার টেপের প্রসারতা কম হওয়ার কারনে তা খুব স্পষ্ট হত না। ১৯৬৮ সালে আসকি’র স্টান্ডার্ড নির্ধারন করা হলে এই চিত্রকর্মের প্রসার ঘটতে থাকে।
একটি ছবির রঙের ঘনত্ব এর উপর বের করা যায় কোন যায়গায় কি ধরনের অক্ষর বসানো সম্ভব। তাই বর্তমান আসকি শিল্পীরা এই বিশেষ কৌশলটিই প্রয়োগ করেন। আর এমন করেই তৈরি করা হয়েছে বড় বড় সব বিজ্ঞানী, দার্শনিকদের আসকি ছবি। আপনি এখন থেকেই শুরু করতে পারেন আসকি আর্টের চর্চা। কারন বিষয়টি খুবই চমকপ্রদ। আপনার কিবোর্ড নিয়ে আজকেই লেগে পড়–ন। আর গাইডলাইনের জন্য নাদান ক্রিভোলিন এর আর্ট টাইপিং বইটি সংগ্রহ করুন। এই বইটি আপনাকে ধাপে ধাপে নিয়ে যাবে এক শৈল্পিক জগতে। আর আপনার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আপনিও হয়ে যাবেন কোন ফ্লোরা স্ট্যাচি।
আসকি ছবি তৈরি করার জন্য আরও হাজার পন্থা আছে। বর্তমানে এই ছবি তৈরি করতে ঝক্কি খুবই কম। হাজার হাজার সফ্টওয়্যার আছে যেগুলো দিয়ে মনের মতন আসকি ছবি তৈরি করা যায়। আপনার ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে যেকোন ভাল সার্চ ইঞ্জিনে Convert Image to Picture এই কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করুন আপনাকে অনেকগুলো সফ্টওয়্যারের লিস্ট দিবে। ডাওনলোড করে তৈরি করা শুরু করুন আপনার মনের মতন আসকি পিকচার। তবে একটি কথা না বললেই নয় এই সফ্টওয়্যার গুলো দিয়ে আপনি একটি কাজ খুব সহজেই করতে পারবেন তা হল কালার আসকি পিকচার। যা অনেক বেশি সুন্দর আর বিচিত্র। উদাহরন হিসেবে ড্যানিয়েল হফম্যানের পিক২টেক্সট সফ্টওয়্যারটির কথা বলা যায়। এই সফ্টওয়্যারটির আছে অস্বাধারন আসকি ছবি তৈরি করার ক্ষমতা। আপনার ইন্টারনেট কানেকশন থাকলে এই সফ্টওয়্যারটি ডাউনলোড করে নিন। সাইট হল http://www.pic2txt.de ; সফ্টওয়্যারটি ডাউনলোড হলে রান করুন সফ্টওয়্যারটি। সাধারনত সফ্টওয়্যারটি জিপ অবস্থায় থাকে তাই আপনাকে আনজিপ করে ব্যবহার করতে হবে। আর এই আনজিপ করার জন্য যেকোন কমপ্রেশন সফ্টওয়্যার ব্যবহার করুন যেমন উইনজিপ (িি.িরিহুরঢ়.পড়স)। সফ্টওয়্যারটির নীচের দিকে ছবি ব্রাওজ করার একটি অপশন আছে। আপনি একটি ছবি বাছাই করুন। খেয়াল রাখবেন ছবিটি যেন ছোট আকারের হয়। এবার ব্রাউজ বাটনটির পাশে অবস্থিত প্লে বাটনটি প্রেস করুন। কিছুক্ষনের মধ্যে আপনার ছবিটিকে আসকি ছবিতে রূপান্তরিত করে ফেলবে। ছবিটিকে সেভ করে বন্ধুদের দেখান। আসকির ধারায় আরও বেশ কিছু পিকচার ফরম্যাট রয়েছে যথা ইউনি পিকচার, এওএল ম্যাক্রো আর্ট।
আসকি ছবির শেষ সংস্করন হল থ্রিডি আসকি পিকচার যা দেখে আপনার মিসরীয় হাইরোগ্লিফিক এর কথা মনে পড়ে যাবে। একটি অক্ষরের নানারকম উপস্থাপন এবং আলো-আঁধারিতে পরিবর্তিত হয় এই ছবির। তবে এই চিত্রকর্মগুলোর ধারা অনেক বেশি চিত্র নির্ভর তাই এটি এখনও টাইপোগ্রাফীর মতন জনপ্রিয় হয়নি। তবে এটি নিয়ে বর্তমানে বিস্তর কাজ চলছে, হয়ত অচিরেই এর কোন স্টান্ডার্ড আমরা দেখতে পারব।
বর্তমানে মোবইল ফোনের এস.এম.এস সার্ভিসেও ব্যবহারকারীরা নানাধরনের ছবি নিয়ে কাজ করে থাকেন যা অনেক দৃষ্টিনন্দন। আবার ইন্টারনেট চ্যাটিং সফ্টওয়্যার এম.আই.আর.সি তেও একধরনের ছবির পপআপ ব্যবহার করা হয়ে থাকে এবং তাও প্রসংসার যোগ্য।
প্রযুক্তির লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের কাজকর্ম সহজ করে দেয়া আর শিল্পের মধ্যে থাকে সহজ কাজগুলোকে অন্যভাবে উপস্থাপন করে মানুষকে আনন্দ দেয়া। যদিও আসকি ছবি আঁকার অনেক ঝক্কি কিন্তু এটি আপনাকে দিতে পারে অনাবিল আনন্দ। তাই বিলম্ব না করে চলে আসুন আসকির এই বিশাল চিত্রজগতে। আপনার সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করলে অনেক আসকি পিকচারের উদাহরন দেখতে পারবেন।
তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিবেদক||
বাংলায় একটা ভাল বাংলা স্পেলচেকারের অভাব কম্পিউটার ব্যবহারকারী মাত্রই অনুভব করেন। বর্তমানে বাংলা প্রকাশনা শিল্প সম্পুর্ন কম্পিউটার নির্ভর হয়ে গেছে। শুধু প্রকাশনা শিল্পই নয়, প্রায় সব ধরনের বাংলা ব্যবহারকারীই ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের জন্য কম্পিউটারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। কারণ কম্পি্উটার হলো সেই প্রযুক্তি যা আমাদের বাংলা প্রক্রিয়াকরণের কাজে বহু জটিলতার অবসান ঘটিয়েছে।
কম্পিউটার দিয়ে সহজে লেখা যায়। বিভিন্ন রকম ফন্ট ব্যবহার করা যায়। ফরমেটিং করা যায় ইচ্ছা মতো। এজন্য ওয়ার্ড প্রসেসরের সঙ্গে ব্যবহার উপযোগী বেশ কিছু বাংলা কিবোর্ড ইন্টারফেস এবং ফন্টও পাওয়া যায়। কিন্তু বানান সঠিক করার একটা সমস্যা এখনও রয়েই গেছে। প্রতিটি টাইপ করা ডকুমেন্টকেই ছাপার আগে প্রুফ দেখে নিতে হয়। এটা খুবই সময়ক্ষেপী একটা প্রক্রিয়া।
একটা ভাল স্পেলচেকার সফটওয়্যার কম্পিউটার ভিত্তিক বানান পরীক্ষণে সময়ের সাশ্রয় ঘটাবে নাটকীয়ভাবে। ঠিক এ কাজের জন্যই তৈরি করা হয়েছে শুদ্ধশব্দ ১.০ বাংলা স্পেলচেকার। সফটওয়্যারটি ডেভেলপ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ছাত্র জাহিদুল ইসলাম রবি।
শুদ্ধশব্দ অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির একটি বাংলা স্পেলচেকার। এটি বহুল ব্যবহৃত মাইত্রেক্রাসফ্ট ওয়ার্ডের সঙ্গে ব্যবহার করা যাবে। ফলে এখন থেকে প্রয়োজন হলেই কম্পিউটারের সাহায্য নিয়ে বানান সংশোধন করা যাবে যা বাঁচিয়ে দেবে ব্যবহারকারীর বহু মুল্যবান সময় এবং শ্রম।
স্পেলচেকার কী
স্পেলচেকার হলো এক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম যা কম্পিউটারের স্মৃতিতে রক্ষিত শব্দের অভিধান ব্যবহার করে শব্দের বানান পরীক্ষা করে। এখানে শব্দ বলতে বোঝায় একটি জ্যোতিচিহ্ন থেকে আরেকটি জ্যোতিচিহ্নের মধ্যবর্তী অক্ষরের সমষ্টি। বাংলায় স্পেলচেকারকে শব্দবীক্ষণ যন্ত্রও বলা যেতে পারে। বানান পরীক্ষার ক্ষেত্রে স্পেলচেকার যদি শব্দটি রক্ষিত বানান অভিধানে না পায় তবে শব্দটিকে ভুল হিসেবে চিহ্নিত করে।স্পেলচেকারের আরেকটি কাজ হলো ভুল হিসেবে চিহ্নিত শব্দটির সম্ভাব্য সঠিক শব্দের পরামর্শ তালিকা তৈরি করা। এ পরামর্শ তালিকা তৈরি করতে স্পেলচেকার ধ্বনিতাত্ত্বিক, রূপতাত্ত্বিক, শব্দের সম্পাদনার দুরুত্ব, ব্যবহারকৃত কিবোর্ড এবং ব্যাকরণসহ আরও অনেক বিষয়াদি বিবেচনা করে। পরামর্শের তালিকা প্রণয়নের পর সেগুলোকে আবার নৈকট্যের মাত্রা অনুসারে সাজায়। পরামর্শ তালিকা সাধারণত যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত রাখা হয়।
শুদ্ধশব্দ কী
শুদ্ধশব্দশ্ব একটি বাংলা স্পেলচেকার। এটি মাইত্রেক্রাসফ্ট ওয়ার্ডের অ্যাড-ইন হিসেবে ডেভালপ করা হয়েছে। যাতে মাইত্রেক্রাসফ্ট ওয়ার্ডে বাংলা টেক্সটের বানান পরীক্ষা করা যায়। এটি ইনস্টল করার পর মাইত্রেক্রাসফ্ট ওয়ার্ড-এ দুটি বাটন তৈরি করে, যথা: ক) ইধহমষধ ঝঢ়বষষরহম খ) গধৎশ ঊৎৎড়ৎ ডড়ৎফং। যে কোন একটি বাটন ক্লিক করলেই স্পেলচেকারটি লোড হবে এবং কারসরের অবস্খান থেকে ডকুমেন্টর শেষ পর্যন্ত বানান পরীক্ষা করবে। প্রথম বাটনটি ক্লিক করলে স্পেলচেকার ডায়ালগ বক্স আসবে যা ভুল শব্দ পেলেই বানান পরীক্ষা ব করে দেবে এবং ভুল শব্দের জন্য সম্ভাব্য সঠিক শব্দের একটি পরামর্শ তালিকা করবে। এরপর ব্যবহারকারীর নির্দেশ অনুযায়ী ভুলশব্দটি সংশোধন করবে অথবা পরবর্তী ভুল শব্দটি অনুসান করবে। দ্বিতীয় বাটনটি ক্লিক করলে, স্পেলচেকারটি কারসর অবস্খান থেকে ডকুমেন্টের শেষ পর্যন্ত টাইপের ভুল হওয়া শব্দগুলোকে নীল এবং বানানের ভুল হওয়া শব্দগুলোকে লাল রঙ দিয়ে চিহ্নিত করবে।
বৈশিষ্ট্য
এর শব্দভাণ্ডারে রয়েছে ১, ০৬, ০০০ এরও বেশি শব্দ। এর ভেতর ৬৫, ০০০ ত্রিক্রয়াপদ নয়, এমন শব্দ, ৩৬, ০০০ ক্রিয়াপদ এবং ৫০০০ এরও বেশি অন্যান্য শব্দ রয়েছে। এ শব্দভাণ্ডারটি প্রণীত হয়েছে সóþöূর্ণ আধুনিক বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে।
নিজের তৈরি এ স্পেলচেকার সফটওয়্যার সম্পর্কে রবি বলেন, আমি লিখতে গেলে প্রচুর বানান ভুল করতাম। বাংলা কম্পোজ করার পর ইংরেজির মতো বাংলা শুদ্ধ না করতে পারার অসুবিধাটা যে কোন ব্যবহারকারীর মতো আমিও অনুভব করতাম। তা থেকেই বানান সংশোধনের জন্য একটা সফট্ওয়্যার তৈরি করার তাগিদ অনুভব করি। তিনি বলেন, বাংলা ভাষার জন্য প্রয়োজন এরকম অন্যান্য প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করা। ভবিষ্যতে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলো মানুষের ব্যবহারের জন্য তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া এবং প্রযুক্তিগুলোর আরও উন্নয়ন ঘটানোর লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।
(দৈনিক সংবাদ)
সাম্প্রতিক মতামত