Sep 22

us-air-force-cyber-command.jpgগত বেশ কদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রিয় সংস্থাগুলোর কস্পিউটার নেটওয়ার্কে হ্যাকিং-এর মাধ্যমে তথ্য চুরির চেষ্টা করা। এ কাজটা শুরু হয়েছিলো আমেরিকার নেটওয়ার্কে হামলার মাধ্যমে। এজন্যই বলা যায় গত মঙ্গলবার ইউএস এয়ার ফোর্স চালু করলো তাদের সাময়িক সাইবার কমান্ড সেন্টার। ইউএস এয়ারফোর্সের সেক্রেটারি মাইকেল ওয়ানি লুজিয়ানাতে অবস্থিত বার্কসডেল এয়ারফোর্স বেসে এই ঘোষনা দেন। এই বেসটা থেকেই চালানো হবে তাদের কাজ। তিনি আরো জানান যে, সাময়িকভাবে এর কার্যক্রম চলবে এক বছরের মতন এবং এই একবছর এদের কাজ হলো সাইবারফেয়ার অপারেশনের জন্য এয়ারফোর্সের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড তৈরী করা। এসময় এটা বাহিনীকে সাইবারস্পেসে যে কোন ধরনের আক্রমন মোকাবেলা করার প্রশিন দিবে এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় ইক্যুয়েপমেন্টের মাধ্যমে শক্তিশালী করে তুলবে যতোদিন না এটা পুরোপুরি অপারেশনাল হয়ে না যায়। সাধারনত শক্তিশালী হ্যাকাররা কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে সেটা থেকে তথ্য চুরি করে, তথ্য পরিবর্তন করে বা ভাইরাসের সংক্রমন ঘটায়। ইতিমধ্যে মে মাসে এস্টোনিয়ায় তাদের আক্রমনের কারনে সরকারী ওয়েবসাইট, স্কুল, কলেজ, ব্যাংক এবং অন্য সকল ইন্সটিটিউশন বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। এর আগে ৯০ এর দশকে কসভোয় ন্যাটোর যুদ্ধে যুগোস্লাভিয়াতে অফেন্সিভ ইলেকট্রনিক এটাক চালানো হয়েছিলো। অবশ্য এর আগে ২০০৫ সালে ইউএস সেনাবাহিনী সাইবারস্পেসে তাদের শক্তি বৃদ্ধি করার ঘোষনা দিয়েছিলো। কিন্তু ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি য়ে এভাবে আক্রমন চালাবে সেটা তাদের মাথাতে ছিলো না।     

Sep 10

বেশ কিছুদিন ধরেই বেশ কিছু দেশের চাইনিজ হ্যাকারদের আক্রমনের শিকার হবার খবর আসছিলো। প্রথমে আমেরিকা তারপর বৃটেন এবং জার্মানি এই আক্রমনের শিকার হয়। আর সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো ফ্রান্স ও। গত শনিবার ফ্রান্সের একজন টপ সিকিউরিটি অফিসিয়াল এমনটিই জানান এএফপি-কে। ফ্রান্সের একটা দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত এসন একটা রিপোর্টের কথা স্বীকার করে সেক্রেটারি জেনারেল অফ ন্যাশেনাল ডিফেন্স ফ্রান্সিস ডেলন বলেন, ’আমরা দেখতে পেয়েছি যে আমাদের ইনফরমেশন সিস্টেম অন্য দেশগুলোর মতন আক্রমনের লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাড়িয়েছে।captsgeslf54090907015813photo00photodefault-389×273.jpg

আমাদের কাছে প্রমান আছে যে এর পিছনে চায়নার হাত আছে। তবে চায়না বলতে আমি কখনো চাইনিজ গর্ভমেন্ট কে বোঝাচ্ছি না। তবে আমরা বুঝতে পারছি না চাইনিজ পিপলস লিবারেশন আর্মি কিভাবে করলো এই কাজটা। ’ কোন কম্পিউটার সিস্টেমগুলোকে হ্যাক করা হয়েছে সেটা জিজ্ঞাস করা হলে তিনি শুধু এটুকু জানান যে, তারা রাষ্ট্রের সার্ভিসগুলোকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তবে একটা নির্ভরযোগ্য সুত্র থেকে জানা গেছে যে, ফ্রান্সের ডিফেন্স মিনিস্ট্রির পাবলিক ইন্টারনেট সাইট হ্যাক করা হয়েছে। তবে এই সাইটে কোন গোপনীয় ইনফরমেশন ছিলো না। হ্যাকাররা আক্রমনটা চালিয়েছে ইনফরমেশন টেকনোলজির ডিফেন্স চেক করার জন্য। তবে চায়না তার আর্মির এই ধরনের যে কোন রকমের এসপিওনাজে জড়িত থাকার কথা অস্বিকার করে আসছে। গত বৃহস্পতিবার বৃটিশ সরকার চায়নাকে এই ধরনের আক্রমনে জড়িত থাকার কথা বলে সংবাদপত্রে বিবৃতি দিলে তার জবাবে চায়নার পররাষ্ট্র দপ্তরের মূখপাত্র জিয়াং ইউ বলেন, ’চাইনিজ মিলিটারি অন্য রাষ্ট্রের সরকারী নেটওয়ার্কের উপর হামলা চালাচ্ছে এমন খবর সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন এবং একই সাথে দ্বায়িত্বজ্ঞানহীন।’ এদিকে টাইমস এবং ইনডিপেনডেন্ট-এর সুত্রে জানা যায় যে, চাইনিজরা বৃটিশ গর্ভমেন্টের নেটওয়ার্কের প্রতিরাবূহ্য ভেংগে ঢুকে পড়েছে।

এদিকে পেন্টাগন দাবী করেছে যে, চাইনিজ মিলিটারি হ্যাকাররা ইউএস এর একটা ব্যাটল ক্যারিয়ারকে সাইবার এটাকের মাধ্যমে অচল করে দেবার প্লান তৈরী করেছে। চাইনিজ আর্মি তে কর্মরত দুজন হ্যাকার এই জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এ প্রসংগে ইউএস আর্মি কলেজ রিপোর্টের লেখক ল্যারি এম ওয়র্টজেল টাইমস কে জানান, ’যে জিনিষটা আমাদের সবচাইতে বেশী ভাবিয়ে তুলছে সেটা হলো বেশিরভাগ চাইনিজ মিলিটারি ম্যানূয়ালে যে দেশটির প্রতি তাদের যুদ্ধে যাবার আগ্রহের কথা বলা হয়েছে তা হলো যুক্তরাষ্ট্র। তারা সত্যিকারার্থে নতুন এক যুদ্ধ পদ্ধতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’ টাইমস থেকে আরো জানা যায় যে, চাইনিজ আর্মি মিলিটারি ট্যাকটিকসের ন্যাটো এবং ইউএস ম্যানুয়ালগুলোকে স্টাডি করে একটা ভার্চুয়াল গাইডবুক অফ ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এন্ড জ্যামিং নামে একটা বইও তৈরী করেছে। পেন্টাগন জানায় যে চাইনিজদের এই অপরেশনের নাম হলো ’ক্রিটিকাল টু সিজ দ্যা ইনিশিয়েটিভ’ আর এই অপরেশনের উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধের আগে প্রতিপরে অর্থনৈতিক, মিলিটারি এবং যোগাযোগ ব্যাবস্থার উপর আঘাত হেনে তাদের দুর্বল করে দেওয়া। পেন্টাগন আরো দাবী করছে যে গত জুনে চাইনিজ মিলিটারিরা তাদের নেটওয়ার্কে হ্যাক করার পর বেশ কিছু দেশ এবং গ্র“প তাদের নেটওয়ার্কে ঢোকার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই আক্রমনগুলো আসছে বেশ কিছু সরকারী এবং বেসরকারী সংস্থা থেকে। এদিকে জার্মান সাপ্তাহিক পত্রিকা ডার স্পাইজেল জানিয়েছে যে কাউন্সেলর এঞ্জেলা মার্কোসের অফিস, পররাষ্ট্র দপ্তর এবং অন্যান্য সরকারী সংস্থায় তারা চাইনিজ আর্মির আক্রমনের আলামত খুজে পেয়েছেন । তবে তারা এই আক্রমনের কেন্দ্রস্থল একনো খুজে বের করতে পারেননি। উল্লেখ্য চায়না আগামি ২০৫০ সালের মধ্যে তাদের সব প্রতিদ্বন্দির উপরে ইলেকট্রনিক আধিপত্য স্থাপনের যেই প্লান হাতে নিয়েছে তারই কার্যক্রম হিসেবে চালানো হচ্ছে এই সাইবার আক্রমন।